Image description

ঘরে পোষা বিড়াল, তার সঙ্গে খেলাধুলা কিংবা সামান্য অসাবধানতা—এমন নানা কারণে ঘটছে কামড় বা আঁচড়ের ঘটনা। মাদারীপুরের শিবচরে সম্প্রতি বিড়ালের কামড় ও আঁচড়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। এর সঙ্গে কুকুরের কামড়ের রোগীও যুক্ত হওয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জলাতঙ্ক (র‍্যাবিস) প্রতিরোধী চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ মো. মেহেদী হাসানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুধু গত আগস্ট মাসে কুকুর ও বিড়ালের কামড়-আঁচড়ে আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ১৮০ জন চিকিৎসা ও ভ্যাকসিন নিয়েছেন। সে হিসাবে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩৮ জন রোগী কুকুর-বিড়ালের কামড় বা আঁচড়ের ঘটনায় হাসপাতালে এসেছেন।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকেরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিড়ালের কামড় ও আঁচড়ের ঘটনা তুলনামূলক বেশি চোখে পড়ছে। ঘরে বিভিন্ন জাতের বিড়াল পোষার প্রবণতা বৃদ্ধি, বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে শখের পোষা বিড়াল পালনের আগ্রহ বাড়ার কারণে এ ধরনের ঘটনা বাড়তে পারে।

জরুরি বিভাগের ইনচার্জ মো. মেহেদী হাসান বলেন, বর্তমানে বিড়ালের কামড় ও আঁচড়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসা রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। পোষা বিড়ালের সঙ্গে খেলাধুলা কিংবা অসাবধানতাবশত প্রাণীটির শরীরে হাত-পা লাগার সময় অনেকেই আঁচড় বা কামড়ের শিকার হচ্ছেন।

সম্প্রতি পোষা বিড়ালের আঁচড়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে র‍্যাবিস ভ্যাকসিন নিতে আসেন মেহের আফরোজ। তিনি জানান, বাসায় একটি পারসিয়ান বিড়াল পালন করেন তিনি। ৯ সেপ্টেম্বর রাতে অসাবধানতাবশত বিড়ালটির গায়ে পা লেগে গেলে সেটি তাঁকে আঁচড় দেয়। পরে সতর্কতা হিসেবে পরদিন সকালে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে র‍্যাবিস ভ্যাকসিন নেন তিনি।

এদিকে বিড়ালের কামড়ের শিকার হয়েছে ১০ বছরের এক শিশুও। শিশুটির বাবা রফিক ব্যাপারী বলেন, গত মাসে তাঁর মেয়ে একটি বিড়ালের বাচ্চা বাড়িতে নিয়ে আসে। মেয়ের আবদারে সেটি বাড়িতে রেখে লালন-পালন করছিলেন তারা। একদিন বিড়ালটির সঙ্গে খেলার সময় সেটি তাঁর মেয়ের হাতে কামড় দেয়। পরে দেরি না করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।

শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. তরিকুল ইসলাম মুকুল বলেন, কুকুর বা বিড়ালের কামড় কিংবা আঁচড়কে কোনোভাবেই অবহেলা করা উচিত নয়। আক্রান্ত স্থান দ্রুত সাবান ও প্রবাহমান পানি দিয়ে অন্তত ১৫ মিনিট ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করতে হবে। ক্ষতস্থানে মরিচ, চুন, মাটি, তেল বা অন্য কোনো পদার্থ লাগানো যাবে না। এরপর দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী র‍্যাবিস ভ্যাকসিনসহ অন্যান্য চিকিৎসা দেওয়া হয়। পাশাপাশি পোষা কুকুর-বিড়ালের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও নিয়মিত টিকাদানের বিষয়েও মালিকদের সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে শিশুদের পোষা প্রাণীর সঙ্গে খেলাধুলার সময় অভিভাবকদের সতর্ক থাকা জরুরি।

স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পোষা প্রাণী মানুষের ঘনিষ্ঠ সঙ্গী হলেও তাদের আচরণ সব সময় অনুমান করা সম্ভব নয়। তাই বিড়াল বা কুকুর পালনের ক্ষেত্রে প্রাণীর টিকা ও স্বাস্থ্যসুরক্ষায় যেমন নজর দিতে হবে, তেমনি কামড় বা আঁচড়ের ঘটনা ঘটলে দ্রুত ক্ষত পরিষ্কার করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

ডিআর