সবুজ ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যয়ে
মহম্মদপুরে দ্যা হিউম্যানিটির ‘বৃক্ষরোপণ ২০২৬’ কর্মসূচি সম্পন্ন
পরিবেশ রক্ষা, বৃক্ষের গুরুত্ব সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে সচেতন করা এবং একটি সবুজ ও বাসযোগ্য ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যয়ে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় ব্যতিক্রমী আয়োজনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দ্যা হিউম্যানিটি আয়োজিত ‘বৃক্ষরোপণ ২০২৬’ কর্মসূচি।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিকভাবে বৃক্ষ, পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে প্রাণবন্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
‘বৃক্ষরোপণ ২০২৬’ কর্মসূচির আওতায় কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে উপজেলার আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।
প্রতিষ্ঠানগুলো হলো: গোপীনাথপুর আব্দুল খালেক স্কুল এন্ড কলেজ, রাজপাট রাজাপুর আর.এম.এ দাখিল মাদ্রাসা, রাজপাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পলাশবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নহাটা রানী পতিত পাবনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নহাটা গার্লস স্কুল এন্ড আইডিয়াল কলেজ, ঝামা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বালিদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আয়োজিত কুইজ প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা পরিবেশ, বৃক্ষ, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেয়। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান যাচাইয়ের পাশাপাশি পরিবেশের প্রতি তাদের দায়িত্ববোধ ও সচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা করা হয়েছে।
বিজয়ীদের হাতে গাছ ও সনদপত্র
এই আয়োজনের অন্যতম বিশেষত্ব ছিল কুইজ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরস্কার হিসেবে বৃক্ষের চারা ও সনদপত্র প্রদান। প্রচলিত পুরস্কারের পরিবর্তে একটি গাছকে পুরস্কার হিসেবে বেছে নেওয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছে পরিবেশ রক্ষার একটি শক্তিশালী বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন আয়োজকরা।
আয়োজকদের মতে, একটি গাছ শুধু পুরস্কার নয়; এটি একটি দায়িত্ব, একটি প্রতিশ্রুতি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ পৃথিবী গড়ার অঙ্গীকার। বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া প্রতিটি বৃক্ষ তাদের জ্ঞানের সাফল্যের পাশাপাশি প্রকৃতির প্রতি দায়বদ্ধতার প্রতীক হয়ে থাকবে।
কুইজ প্রতিযোগিতার পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। এছাড়াও মসজিদ সংলগ্ন কওমি মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ, গোরস্থান এবং বিভিন্ন রাস্তার দুই ধারে বৃক্ষের চারা রোপণ করা হয়েছে।
দ্যা হিউম্যানিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, শুধু গাছ লাগানোই নয়, রোপণের পর গাছের পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করার বিষয়েও সচেতনতা তৈরি করা হচ্ছে। কারণ একটি চারা রোপণ করার চেয়ে সেটিকে পরিচর্যার মাধ্যমে বড় করে তোলা এবং দীর্ঘদিন বাঁচিয়ে রাখাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ দূষণ, তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও নির্বিচারে বৃক্ষ নিধনের ফলে প্রকৃতির ভারসাম্য ক্রমেই হুমকির মুখে পড়ছে। এমন বাস্তবতায় নতুন প্রজন্মকে বৃক্ষ ও পরিবেশ রক্ষার কাজে সম্পৃক্ত করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আয়োজকরা মনে করেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা তৈরি করা গেলে সেই বার্তা পরিবার থেকে সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে পড়বে। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের নাগরিক। তাই তাদের মধ্যে প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও পরিবেশ রক্ষার মানসিকতা তৈরি করা সময়ের দাবি।
দ্যা হিউম্যানিটির ‘বৃক্ষরোপণ ২০২৬’ কর্মসূচির মাধ্যমে কুইজ প্রতিযোগিতা ও বৃক্ষরোপণকে একসঙ্গে যুক্ত করে একটি ব্যতিক্রমী সামাজিক ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
মানবিক, সামাজিক ও পরিবেশ রক্ষায় বিভিন্ন সময় কাজ করে আসা সংগঠন দ্যা হিউম্যানিটির প্রত্যয়— “মানুষের পাশে সব সময়, মানবতার হোক জয়।”
এসএ




Comments