রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান হুমকি এবং ইউরোপের নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফ্রান্সের পারমাণবিক প্রতিরোধ উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফিনল্যান্ড।
সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিঙ্কিতে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা নতুন কৌশলগত অংশীদারত্বের চুক্তি সই করেন। এর মাধ্যমে নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার করার পথে এগিয়েছে দুই দেশ।
একই দিন ফিনল্যান্ড জানায়, তারা ফ্রান্সের ‘ফরওয়ার্ড ডিটারেন্স ইনিশিয়েটিভ’-এও যোগ দেবে। এর ফলে ফ্রান্সের পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার সহযোগিতার আওতায় থাকা ইউরোপীয় দেশের সংখ্যা বেড়ে ১১টিতে দাঁড়াল।
ফিনল্যান্ড এ উদ্যোগে যোগ দেওয়া দশম ইউরোপীয় দেশ। এর আগে যুক্তরাজ্য, জার্মানি, পোল্যান্ড, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, গ্রিস, ডেনমার্ক ও নরওয়ে এতে যুক্ত হয়েছে।
ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, উদ্যোগটির মূল লক্ষ্য ইউরোপের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা।
সহযোগিতা কার্যকর করতে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে দুই দেশ একটি পারমাণবিক বিষয়ক স্টিয়ারিং গ্রুপ গঠন করবে। এই গ্রুপ পারমাণবিক প্রতিরোধ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দুই দেশের সহযোগিতা এগিয়ে নেবে।
তবে আলেকজান্ডার স্টাব স্পষ্ট করেছেন, ফ্রান্সের এই উদ্যোগ ন্যাটোর পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার বিকল্প নয়। ফ্রান্সের সঙ্গে সহযোগিতার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর সঙ্গে ব্যাপক আলোচনা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটো ও ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন অবস্থান নেওয়ার পর ইউরোপের দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। রাশিয়ার কাছাকাছি থাকা পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে এ নিয়ে আগ্রহ তুলনামূলক বেশি।
এদিকে ফ্রান্সের সঙ্গে পারমাণবিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করছে এস্তোনিয়াও। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টেন মিচাল এএফপিকে বলেছেন, এস্তোনিয়া বর্তমানে ন্যাটোর পারমাণবিক নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় রয়েছে। পাশাপাশি ফ্রান্স দেশটিতে সেনা মোতায়েন করে সহযোগিতা করছে। ফলে পারমাণবিক নিরাপত্তায় সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সুযোগ থাকলে তা বিবেচনা করা হতে পারে।
ফ্রান্সের উদ্যোগের ক্ষেত্রে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ফরাসি প্রেসিডেন্টের হাতে থাকবে। ন্যাটোর ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। সেখানে সদস্যদেশগুলোর সমন্বিত কাঠামোর মাধ্যমে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
চুক্তির আওতায় থাকা দেশগুলো যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ নেওয়া, প্রয়োজন হলে পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম সামরিক সরঞ্জাম অল্প সময়ের জন্য মিত্রদেশের ভূখণ্ডে মোতায়েন এবং নিরাপত্তা বিষয়ে আরও ঘনিষ্ঠভাবে পরামর্শ করার সুযোগ পাবে।
সূত্র: আল-জাজিরা
এসএস




Comments