Image description

বাবা হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন রাজধানীর বংশালের বাসিন্দা মোহাম্মদ ইউসুফ। স্ত্রী সানজিদা ইসলাম ছিলেন সাড়ে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। অনাগত সন্তানকে ঘিরে ছিল তাদের অনেক স্বপ্ন। কিন্তু ডেঙ্গুতে সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। মাত্র ১৫ ঘণ্টার ব্যবধানে স্ত্রী ও অনাগত সন্তানকে হারিয়েছেন ইউসুফ।

স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি ইউসুফ ও সানজিদার বিয়ে হয়। গর্ভধারণের পর থেকে আদ্-দীন হাসপাতালে নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছিলেন সানজিদা।

গত ২ সেপ্টেম্বর নিয়মিত চেকআপে আলট্রাসনোগ্রাম করা হলে গর্ভের শিশুর হৃদ্‌স্পন্দন স্বাভাবিক ছিল। তবে সানজিদার শরীরের তাপমাত্রা কিছুটা বেশি ছিল। পরে জ্বরও আসে।

৫ সেপ্টেম্বর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেদিনের আলট্রাসনোগ্রামেও শিশুর হৃদ্‌স্পন্দন পাওয়া যায়। বিভিন্ন পরীক্ষার পাশাপাশি ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হলে রিপোর্ট পজিটিভ আসে। চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে বাসায় নেওয়া হয়।

এর পরদিন রাতে সানজিদার বমির সঙ্গে রক্ত আসে। দাঁত ব্রাশ করার সময়ও রক্তপাত হয়। তাকে আবার হাসপাতালে নেওয়া হলে জানা যায়, গর্ভের শিশুটির হৃদ্‌স্পন্দন নেই। চিকিৎসকরা জানান, মায়ের গর্ভেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে সানজিদার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়ার প্রয়োজন হয়। আদ্-দীন হাসপাতালে তখন আইসিইউ সুবিধা না থাকায় তাকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ইউসুফের ভাষ্য, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার স্ত্রীর প্লাটিলেট দ্রুত কমতে থাকে। একপর্যায়ে তা ৫ হাজারে নেমে আসে। কয়েক দিনে প্রায় ৩০ ব্যাগ রক্তের ব্যবস্থা করা হলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি।

পরে তাকে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আইসিইউতে ভর্তি করা হয় সানজিদাকে। প্লাটিলেট খুব কম থাকায় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে গর্ভে থাকা মৃত সন্তানকে বের করা সম্ভব নয় বলে চিকিৎসকরা জানান।

এরপর গত ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে গর্ভের মৃত সন্তান বের হয়ে আসে। আর পরদিন ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৭টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সানজিদা।

মাত্র ১৫ ঘণ্টার ব্যবধানে স্ত্রী ও অনাগত সন্তানকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন ইউসুফ। ১৪ সেপ্টেম্বর ছিল তার নিজের জন্মদিনও।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ত্রীকে হারানোর বেদনা জানিয়ে ইউসুফ লিখেছেন, অনেক অপেক্ষা ও ধৈর্যের পর আল্লাহ তাকে বাবা হওয়ার সুযোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু বাবা হওয়ার আনন্দ তিনি পাননি। স্ত্রী ও সন্তানকে হারানোর এই ঘটনাকে আল্লাহর পরীক্ষা হিসেবে মেনে নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

এসএস