Image description

লোহিত সাগর ও বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতিতে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি ঝুঁকিতে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মিসরের সমর্থন চেয়েছে সৌদি আরব। এ নিয়ে মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ এল-সিসির সঙ্গে বৈঠক করেছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।

মঙ্গলবার কায়রোতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে লোহিত সাগর ও বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে দুই নেতা অভিন্ন অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। মিসরের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় নেওয়া পদক্ষেপের প্রতি মিসরের সমর্থন রয়েছে। তবে ভবিষ্যতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি।

কেন মিসরের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ?

লোহিত সাগরের উত্তর প্রান্তে সুয়েজ খালের নিয়ন্ত্রণ মিসরের হাতে। আর দক্ষিণ প্রান্তের বাব এল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে চলাচল বিঘ্নিত হলে সুয়েজ খালের বাণিজ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে লোহিত সাগরের নৌপথের নিরাপত্তা সৌদি আরবের পাশাপাশি মিসরের অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত।

এদিকে ইয়েমেনের হুতিরা লোহিত সাগরের উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকা এবং বাব এল-মান্দেবের আশপাশে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়েছে। এর ফলে সৌদি আরবের লোহিত সাগর দিয়ে তেল পরিবহনের বিকল্প পথও চাপের মুখে পড়েছে।

সৌদি আরবের জন্য সংকটটি আরও জটিল হয়েছে দেশটির পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনে হামলার পর। এ পাইপলাইন পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ। হামলার পর পাইপলাইনটির কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে বলে এপি জানিয়েছে।

তেলের বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলারের ওপরে উঠেছিল। তবে সৌদি আরব ওমানের মাধ্যমে অতিরিক্ত অপরিশোধিত তেল সরবরাহ বাড়ানোর পর বুধবার দাম কিছুটা কমে আসে।

মিসর কি সামরিক সহায়তা দেবে?

বিশ্লেষকদের মতে, মিসরের কাছ থেকে সরাসরি সেনা পাঠানোর মতো সামরিক সহায়তা চাওয়ার সম্ভাবনা কম। বরং কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সমর্থন পাওয়াই সৌদি আরবের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ওয়াশিংটনভিত্তিক সেন্টার ফর আমেরিকান প্রগ্রেসের জ্যেষ্ঠ ফেলো এইচ এ হেলিয়ারও মনে করেন, কায়রো রিয়াদকে রাজনৈতিক সমর্থন আদায়ে সহায়তা করতে পারে।

অন্যদিকে মিসরও সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়ানোর বিষয়ে সতর্ক। দেশটি গত কয়েক বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংকটে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছে। ফলে কায়রোর সহযোগিতার ধরন সামরিকের চেয়ে কূটনৈতিক হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

সব মিলিয়ে, লোহিত সাগর ও বাব এল-মান্দেবের নিরাপত্তা এখন সৌদি আরবের তেল রপ্তানি এবং মিসরের সুয়েজ খালনির্ভর রাজস্ব—দুই দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে আঞ্চলিক নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে রিয়াদ ও কায়রোর সমন্বয় আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), রয়টার্স

এনএ