Image description

ন্যাটোকে বড় ধরনের পরীক্ষায় ফেলতে রাশিয়া সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি নিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ইউরোপের কয়েকজন শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা। তাদের ধারণা, ন্যাটোর প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতির কার্যকারিতা যাচাই করতে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই রাশিয়া ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র বা সীমিত সামরিক অনুপ্রবেশের মতো পদক্ষেপ নিতে পারে।

পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক দেশটির পার্লামেন্টে বলেন, ন্যাটো সনদের আর্টিকেল ৫ বাস্তবে কতটা কার্যকর, তা পরীক্ষা করতে রাশিয়া আগামী মাসগুলোতে ন্যাটো ভূখণ্ডে ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ টাস্কের বক্তব্যকে সুনির্দিষ্ট ও তথ্যভিত্তিক বলে উল্লেখ করেছেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া পৃথক সাক্ষাৎকারে ইউরোপের কয়েকজন গোয়েন্দা প্রধান সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে কথা বলেছেন। চেক প্রজাতন্ত্রের বিআইএস সিকিউরিটি সার্ভিসের প্রধান মিশাল কৌদেলকা বলেন, ড্রোন তৎপরতার পাশাপাশি রাশিয়ার সীমান্তবর্তী ন্যাটো ভূখণ্ডে সীমিত সামরিক অনুপ্রবেশ বা উসকানিমূলক পদক্ষেপের আশঙ্কা রয়েছে।

কৌদেলকার মতে, রাশিয়া যদি ন্যাটো দেশগুলোর মধ্যে বড় ধরনের সংকট তৈরি করতে পারে, তাহলে ইউক্রেনকে পশ্চিমা সহায়তা কমে যেতে পারে—এমন হিসাব মস্কোর থাকতে পারে।

তবে বাল্টিক অঞ্চলের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা সরাসরি হামলার বিষয়ে কিছুটা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। লাটভিয়ার রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থার মহাপরিচালক নরমন্ডস মেঝভিয়েটস বলেন, এই মুহূর্তে রাশিয়ার সরাসরি হামলার কোনো সুস্পষ্ট আলামত নেই। তবে মস্কো ইউরোপে বড় ধরনের কোনো পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, রাশিয়ার কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে, নাকি পশ্চিমা সমাজে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি করাই তাদের উদ্দেশ্য—তা এখনো স্পষ্ট নয়।

এদিকে সুইডেনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান থমাস নিলসন মনে করেন, ইউরোপজুড়ে রাশিয়ার নাশকতামূলক তৎপরতা বেড়েছে। জার্মানির লাইপজিগ বিমানবন্দরে সম্প্রতি অস্ত্রসজ্জিত ড্রোন প্রবেশের ঘটনাকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

লাটভিয়ার গোয়েন্দা প্রধানের মতে, বিচ্ছিন্ন নাশকতার পরিবর্তে রাশিয়া এখন ইউক্রেনকে সহায়তাকারী পশ্চিমা প্রতিরক্ষা শিল্প ও রেলপথের মতো অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।

তবে ন্যাটোর বিরুদ্ধে হামলার প্রস্তুতির অভিযোগ অস্বীকার করেছে রাশিয়া। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, এসব দাবির সঙ্গে রাশিয়ার বাস্তবতা বা ইচ্ছার কোনো সম্পর্ক নেই।

এরপরও ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার হামলার আগে মস্কোর অস্বীকারের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ইউরোপীয় দেশগুলো সম্ভাব্য ঝুঁকিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। সুইডেন ও লাটভিয়ার গোয়েন্দা কর্মকর্তারা মনে করছেন, পরিস্থিতি যেদিকেই এগোক, আগামী মাসগুলোতে ইউরোপে রাশিয়ার নাশকতামূলক তৎপরতা আরও বাড়তে পারে।

এসএস