Image description

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগদানের পাশাপাশি নিউইয়র্কে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অধিবেশনের সাইডলাইনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও চুক্তি স্বাক্ষরের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি ‘এককভাবে নয়, সম্মিলিতভাবে পদক্ষেপ’ গ্রহণের জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে জাতিসংঘ সদরদপ্তরের ট্রাস্টিশিপ কাউন্সিলে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আহ্বানে অনুষ্ঠিত ‘জলবায়ু পদক্ষেপ ও ন্যায্য উত্তরণ’ বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সভায় এই আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। এর আগে জলবায়ু সংকট থেকে উত্তরণে সুনির্দিষ্ট পাঁচ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন তিনি।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ৫ দফা প্রস্তাব:

  • গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ হ্রাস: প্যারিস চুক্তিতে নির্ধারিত ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সীমা বজায় রাখতে বিশ্বব্যাপী গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ অবিলম্বে কমাতে হবে।

  • সহজলভ্য অর্থায়ন: জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অভিযোজন খাতে পূর্বানুমেয় ও সহজলভ্য জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

  • ন্যায্য উত্তরণ: জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তিতে আরও বেশি প্রবেশাধিকার নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে একটি ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক জলবায়ু উত্তরণ ঘটাতে হবে।

  • নবায়নযোগ্য জ্বালানি: সহজলভ্য অর্থায়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ করতে হবে।

  • ক্ষতিপূরণ তহবিল: ‘ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান তহবিল’ (Loss and Damage Fund)-এর পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে এবং নিয়মিতভাবে এর অর্থ পুনঃপূরণ করতে হবে।

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী জানান, বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান শূন্য দশমিক ৫ শতাংশেরও কম হওয়া সত্ত্বেও দেশটি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অন্যতম চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। শতাব্দীর শেষ নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে উপকূলীয় অঞ্চলের ১২ থেকে ১৮ শতাংশ তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনীতিকে মারাত্মক হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। সরকারের অভ্যন্তরীণ উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, চলতি বাজেটে জলবায়ু অভিযোজনে প্রায় ৩.১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়া আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা এবং প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খননসহ পদ্মা ও তিস্তা ব্যারাজ মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলেছে।

দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি: নিউইয়র্ক সফরের অংশ হিসেবে ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই প্লেনকোভিচের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ, দক্ষ জনশক্তি এবং শিক্ষা-প্রযুক্তিতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া গেটস ফাউন্ডেশনের সিইও মার্ক সুজম্যানের সঙ্গে বৈঠকে জনস্বাস্থ্য, শিশুস্বাস্থ্য, টিকাদান কর্মসূচি এবং ডিজিটাল পাবলিক হেলথ কেয়ার সিস্টেম গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।

এদিকে, রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে মার্কিন বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে আরও ১১টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। নিউইয়র্কে আয়োজিত এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি ও বাণিজ্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরে হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং ও সফরসঙ্গী উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এই পুরো সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। আজ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।