Image description

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রায় পাঁচ সপ্তাহ আগে মার্কিন ভোটারদের উদ্দেশে ২৫ পৃষ্ঠার একটি খোলা চিঠি পাঠিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ডস বাহিনী (আইআরজিসি)। চিঠিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি প্রত্যাখ্যান, ইসরায়েলকে দেওয়া সমর্থন ও বিদেশি যুদ্ধে জড়ানোর বিরোধিতা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্য এবং পারস্য উপসাগর থেকে তেল রপ্তানিতে তেহরানের অবরোধের কার্যকারিতা সম্পর্কে তথ্য গোপন করছেন।

আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচনের আগে এই চিঠি মার্কিন প্রশাসনের আচরণে প্রভাব ফেলবে বলে তিনি আশা করছেন না। তবে মার্কিন ভোটাররা ইরানের বক্তব্য জানতে পারবেন বলে মনে করেন তিনি।

মোহেব্বি বলেন, মার্কিন জনগণ অনেক ঘটনা সম্পর্কে জানেন না। তারা যদি বিষয়গুলো বিস্তারিত জানতেন, তাহলে ভিন্নভাবে চিন্তা করতেন এবং অন্য সিদ্ধান্ত নিতেন বলে ইরান বিশ্বাস করে।

এদিকে বিভিন্ন জনমত জরিপে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি ডেমোক্র্যাটদের চাপে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প বারবার ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। গত সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, চাইলে ইরানকে ‘ধূলিসাৎ’ করতে পারেন।

ট্রাম্পের বক্তব্যের জবাবে মোহেব্বি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ভালো করেই জানে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে না। তিনি ট্রাম্পের সমালোচনা করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও সেনাসদস্যদের জীবন এমন একজনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে, যিনি অভ্যাসগত মিথ্যাবাদী এবং অতিমাত্রায় লোভী।

এদিকে পারস্য উপসাগর থেকে কয়েকটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার বের করতে পারায় হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ কমে গেছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের করা দাবিও প্রত্যাখ্যান করেছেন আইআরজিসির মুখপাত্র।

মোহেব্বি বলেন, বিপুল ব্যয়, ঝুঁকি ও নানা জটিলতা সত্ত্বেও মার্কিনিরা অন্ধকারের সুযোগে ছোট জাহাজের মাধ্যমে সীমিত পরিমাণ তেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে পার করতে পারলেও এর অর্থ এই নয় যে প্রণালিটি উন্মুক্ত রয়েছে।

তবে জ্বালানি তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল রপ্তানি কিছুটা বেড়েছে। এ সময়ে দৈনিক তেল রপ্তানির পরিমাণ প্রায় এক কোটি ব্যারেলে পৌঁছানোর পথে রয়েছে, যা যুদ্ধের আগের সময়ের প্রায় অর্ধেক।

সূত্র: রয়টার্স

এসএস