Image description

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘ সাত মাস ধরে চলা সামরিক ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝে এবার বড় ধরনের ধাক্কা খেল ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও অর্থনীতি। তীব্র অর্থনৈতিক চাপ ও চলমান সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যেই পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী মহসেন পাকনেজাদ।

রোববার (৪ সেপ্টেম্বর) তাসনিম নিউজের বরাতে আনাদুলু এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের যোগাযোগ বিভাগের উপপ্রধান মেহদি তাবাতাবাই বলেছেন, রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান পাকনেজাদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম তদারকির জন্য হামিদ বোভার্ডকে ভারপ্রাপ্ত জ্বালানিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাকনেজাদের পদত্যাগের কোনো কারণ জানানো হয়নি।

এর আগে ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর আন্তর্জাতিক সংস্থা ওপেকের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য দেশ হিসেবে ইরানের তেল মন্ত্রণালয়ের নীতি-নির্ধারণী মূল চেয়ারে বসেন মহসেন পাকনেজাদ।

দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় দুই বছরের মাথায় আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকট ও সম্ভাব্য তেল রপ্তানির ঝুঁকির মাঝে তাকে পদ সরে দাঁড়াতে হলো। বিস্ময়কর বিষয় হলো, পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক খবরের ঠিক কয়েক ঘণ্টা পূর্বেই রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে সম্প্রচারিত এক বিশেষ বক্তব্যে তেল বিক্রি নিয়ে বেশ আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন মহসেন পাকনেজাদ।

বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, আন্তর্জাতিক বাধা ও অবরোধের মধ্যেও তেল বিক্রির অর্থ যথাসময়ে ইরানের অর্থনীতিতে আসছে এবং ভবিষ্যতেও আসবে। ফলে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পরিস্থিতি কেন পরিবর্তিত হলো এবং তিনি ঠিক কী কারণে স্বেচ্ছায় পদ ছেড়েছেন বা তাকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তেহরান থেকে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন অবরোধ, ক্রমাগত সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়া এবং তেল অবকাঠামোর নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের জের ধরেই এমন আকস্মিক রদবদল ঘটতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

এসএস