তাইওয়ানকে সামরিক সহায়তা ও অস্ত্র সরবরাহের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর সমালোচনা করে তাইওয়ান প্রণালীতে ওয়াশিংটন কৃত্রিম উত্তেজনা উসকে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে উত্তর কোরিয়া।
মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ-তে প্রকাশিত এক মন্তব্যে দেশটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশ্লেষক কিম মিয়ং চোল দাবি করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের আগ্রাসী নীতি এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে।
তাইওয়ানে মার্কিন নির্মিত যুদ্ধবিমান পৌঁছানোর তীব্র নিন্দা জানিয়ে কেসিএনএ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, "তাইওয়ানের সুরক্ষার অজুহাতে চীনের জাতীয় শক্তির মুখোমুখি হওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র আদৌ প্রস্তুত কি না এবং এর ভয়াবহ পরিণতি তারা সামলাতে পারবে কি না, তা নিয়ে ওয়াশিংটনের দু'বার ভাবা উচিত।" উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে তাইওয়ানের অর্ডার করা ৬৬টি আধুনিক এফ-১৬ভি ব্লক ৭০ (F-16V Block 70) যুদ্ধবিমানের প্রথম চালানের দুটি বিমান গত সপ্তাহে তাইওয়ানে এসে পৌঁছেছে। বেইজিংয়ের সম্ভাব্য সামরিক হুমকি মোকাবিলার লক্ষ্যেই এই যুদ্ধবিমানগুলো সংগ্রহ করছে তাইওয়ান।
অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্মদিনে পাঠানো এক বিশেষ শুভেচ্ছা বার্তায় উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন রাশিয়ার সামরিক ও কৌশলগত প্রচেষ্টায় পিয়ংইয়ংয়ের নিরবচ্ছিন্ন সমর্থন বজায় রাখার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়ে কিম জং উন বলেন, সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় রাশিয়ার 'ন্যায্য যুদ্ধ' শেষ পর্যন্ত নিশ্চিতভাবেই জয়লাভ করবে।
যদিও প্রেরিত বার্তায় সরাসরি ইউক্রেন যুদ্ধের কথা উল্লেখ করা হয়নি, তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, রাশিয়াকে সামরিক সহায়তা দিতে পিয়ংইয়ং ইতোমধ্যে হাজার হাজার সেনা ও বিপুল অস্ত্রশস্ত্র পাঠিয়েছে। ২০২৪ সালের জুনে পুতিন ও কিম জং উনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে বাণিজ্যিক, কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে।
ডিআর




Comments