ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ১৩ মাস বয়সী এক শিশুকে দুই লাখ টাকায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে তার বাবা ও স্বজনদের বিরুদ্ধে। পরে ঢাকার দোহার থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির দাদা-দাদিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) ভোরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন সকালে শিশুটির মা রোজিনা বেগম বাদী হয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় মানব পাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা করেন। মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ঈশ্বরগঞ্জের মাইজহাটি এলাকার উজ্জ্বল মিয়া (৫০), তাঁর স্ত্রী ও শিশুটির দাদি আয়শা খাতুন (৪৫), শিশুটির ফুফু শরিফা খাতুন (৩৫) এবং ঢাকার দোহার উপজেলার হরিচণ্ডী এলাকার আবেদ মোল্লা (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী শিখা (৩৫)।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, প্রায় দুই বছর আগে রোজিনা বেগমের সঙ্গে উজ্জ্বল মিয়ার ছেলে নাঈম মিয়ার বিয়ে হয়। তাদের ১৩ মাস বয়সী ছেলে মোজাহিদ। পারিবারিক কলহের জেরে প্রায় পাঁচ মাস আগে রোজিনাকে মারধর করে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তবে শিশুটিকে দাদা-দাদির কাছে রেখে দেওয়া হয়।
পরে রোজিনা গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় কাজ শুরু করেন। এর মধ্যে স্থানীয়দের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন শিশুটিকে অজ্ঞাত কয়েকজনের কাছে দুই লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন।
পরদিন রাতে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে ছেলের বিষয়ে জানতে চাইলে তাঁকে গালাগাল করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, সোমবার শিশুটির সন্ধান চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন রোজিনা। পরে তদন্ত করে শিশুটির অবস্থান ঢাকার দোহার উপজেলার চর মাহমুদপুর ইউনিয়নের হরিচণ্ডীর একটি এলাকায় শনাক্ত করা হয়। সেখানে অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। একই অভিযানে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ রোমন বলেন, যে দম্পতির কাছ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে, তাঁদের কোনো সন্তান নেই। শিশুটিকে লালনপালনের জন্য তাঁরা নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন। তবে শিশুটিকে নেওয়ার প্রক্রিয়া সঠিক ছিল না।
ওসি আরও বলেন, শিশুটিকে নিরাপদে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাকে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এসএস




Comments