Image description

রাজধানীর বিভিন্ন মন্দিরে ঘুরে প্রতিমার গায়ে থাকা স্বর্ণালংকার চুরির অভিযোগে স্বামী-স্ত্রীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার অন্য দুজন স্বর্ণ ব্যবসায়ী।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) ফারুক হোসেন।

গ্রেপ্তার দম্পতি হলেন অর্ণব রায় ও তার স্ত্রী লিপি কর্মকার। পুলিশ জানিয়েছে, রমনা কালীমন্দির ছাড়াও আরও দুটি মন্দিরে স্বর্ণ চুরির ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।

পুলিশ জানায়, গত ৭ অক্টোবর সকাল পৌনে ৯টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে শাহবাগের রমনা কালীমন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটে। মন্দিরের মা কালী প্রতিমার জিভে রাখা প্রায় ছয় আনা ওজনের স্বর্ণ চুরি হয়। এর বাজারমূল্য প্রায় ৮০ হাজার টাকা। এ ঘটনায় মন্দিরের পুরোহিত সুজিত চক্রবর্তী শাহবাগ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগের পর মন্দিরের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা করে পুলিশ। পরে উত্তরখান থানার দোবাদিয়া এলাকা থেকে অর্ণব রায় ও লিপি কর্মকারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, আদালতে তারা দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণখানের সাদিয়া জুয়েলার্সের মালিক মো. মুহিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে দুই আনা এক রতি ওজনের একটি স্বর্ণের পাত উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, এটি রমনা কালীমন্দির থেকে চুরি হওয়া স্বর্ণের অংশ।

এ ছাড়া গত ১৩ সেপ্টেম্বর সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দিরে স্বর্ণ চুরির ঘটনাতেও অর্ণব ও লিপির সম্পৃক্ততা পেয়েছে পুলিশ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই মন্দির থেকে চুরি হওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের দাবি, চুরি করা স্বর্ণালংকার জাকারিয়া ইসলাম নামের এক জুয়েলারি ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করেছিলেন ওই দম্পতি। এ ঘটনায় তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার ফারুক হোসেন জানান, গত ১১ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জের দেওভোগে একটি মন্দিরে বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারীর গলার স্বর্ণের চেইন চুরির চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে অর্ণব রায়ের বিরুদ্ধে। চেইন নিয়ে পালানোর সময় মন্দিরের পুরোহিত তাকে ধরে ফেলেন। পরে মন্দির কমিটির সদস্যরা তাকে ছেড়ে দেন।

পুলিশ বলছে, অর্ণব ও লিপি একটি চোর চক্রের সদস্য। এখন পর্যন্ত তিনটি ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তারা বিভিন্ন মন্দিরে ঘুরে ঘুরে চুরি করতেন। অতীতে একই ধরনের আরও কোনো চুরির ঘটনায় তারা জড়িত ছিলেন কি না এবং চক্রের সঙ্গে অন্য কেউ যুক্ত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এসএস