Image description

অনিয়ন্ত্রিত ও অপরিকল্পিত কীটনাশকের অতিমাত্রায় ব্যবহারের কারণে দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ কৃষক মারাত্মক রোগ ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছেন কৃষ এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি অভিযোগ করেছেন, দেশে আমদানি করা কীটনাশক শুল্ক বিভাগ থেকে খালাসের পূর্বে তা মানবদেহের জন্য নিরাপদ কি না, তা পরীক্ষা করার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা বা নিয়ম বর্তমানে নেই।

রোববার (২৫ অক্টোবর) রাজধানীর ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি)-এর মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশ সোসাইটি ফর সেফ ফুড’ আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কীটনাশক আমদানির বর্তমান ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থার কথা তুলে ধরে কৃষিমন্ত্রী বলেন, “আগে মানুষ বলত কৃষকেরা কঠোর পরিশ্রম করেন বিধায় তাঁরা সহজে অসুস্থ হন না। কিন্তু বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তে দেখা যাচ্ছে, আজ দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ কৃষক ক্যান্সারে আক্রান্ত। এর প্রধান কারণ ক্ষতিকর কীটনাশকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার।”

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে কীটনাশক আমদানির অনুমতি দেওয়া হয় মূলত নির্দিষ্ট পোকামাকড়ের ওপর প্রয়োগ করে তা কার্যকর কি না, শুধু সেই কার্যকারিতা যাচাইয়ের ভিত্তিতে। কিন্তু ওই কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ মানুষের খাদ্য ও স্বাস্থ্যের জন্য কতটা মারাত্মক ক্ষতিকর, শুল্ক বিভাগ থেকে তা ছাড় পাওয়ার আগে তা পরীক্ষার কোনো নিয়ম নেই। বিশ্বের অনেক দেশেই নিষিদ্ধ এমন অনেক কীটনাশকও আমাদের দেশে আমদানি ও বাজারজাত করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতি বদলাতে কীটনাশক আমদানি ও ব্যবহারের বিদ্যমান নীতিমালা পর্যালোচনার জন্য সরকার ইতিমধ্যে কয়েকটি কমিটি গঠন করেছে বলে জানান তিনি।

খাদ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে বিপণন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে গুণগত মান নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন:

পোলট্রি খাত: মুরগির খাদ্যে অ্যান্টিবায়োটিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এবং খামারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কড়া নজরদারি বাড়াতে হবে।

মাটি ও সার: অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে মাটির স্বাস্থ্য নষ্ট হচ্ছে। তাই সুষম সার ব্যবহার ও উত্তম কৃষিচর্চা (GAP) মেনে চলতে হবে।

কৃষি উদ্যোক্তা ও রপ্তানি: কাঁঠাল ও আনারসসহ সম্ভাবনাময় কৃষিপণ্যের মান উন্নয়ন করে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণে কাজ করছে সরকার।

বাংলাদেশ সোসাইটি ফর সেফ ফুডের সেমিনার আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ম. তামিম, জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আমির হোসেন, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. খালেদ কনক এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ের পরিচালক ড. মোহাম্মদ এনায়েত-ই-রাব্বি।

ডিআর