শিগগিরই বিএনপির সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হতে পারে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কাউন্সিলে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেতে পারে দলের মহাসচিব পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের প্রার্থী হওয়ার পর মহাসচিবের দায়িত্ব ছেড়ে দেন। এরপর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান রুহুল কবির রিজভী। এর আগে তাকে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয়।
এ কারণে আসন্ন কাউন্সিলে রিজভীকেই পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব করা হবে কি না, তা নিয়ে দলের ভেতরে আলোচনা চলছে। কাউন্সিলের মাধ্যমে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
মহাসচিব পদে আরও কয়েকজন নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে আছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সমাজকল্যাণমন্ত্রী এজেডএম জাহিদ হোসেন এবং যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
কাউন্সিলে তাদের মধ্য থেকে কাউকে মহাসচিব করা হবে, নাকি নতুন কোনো নেতা এই দায়িত্ব পাবেন—এ নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আগ্রহ রয়েছে।
এদিকে কাউন্সিলের আগে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিবের শূন্য পদও পূরণ করা হতে পারে। এ পদে যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম বকুলের নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ইঙ্গিত দেয়নি।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর বিএনপির সামনে এখন দুটি বড় সাংগঠনিক কাজ। এগুলো হলো স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল আয়োজন।
দলের স্থায়ী কমিটির একজন জ্যেষ্ঠ সদস্য ও সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কারণেই জাতীয় কাউন্সিল আয়োজন কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। চলতি বছর কাউন্সিল হওয়ার সম্ভাবনা কম। আগামী বছরের শুরুতে, বিশেষ করে ফেব্রুয়ারিকে লক্ষ্য করে প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, কাউন্সিলের দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। তবে খুব শিগগিরই কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খানও জানান, যত দ্রুত সম্ভব কাউন্সিল আয়োজন করতে চান তারা। এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
বিএনপির সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৬ সালের মার্চে। দলীয় নিয়ম অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পরপর কাউন্সিল হওয়ার কথা থাকলেও প্রায় এক দশক ধরে তা হয়নি। এ সময়ে নির্বাহী কমিটিতে একাধিকবার পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নেতারা দায়িত্ব পেয়েছেন, অনেকে পদোন্নতি পেয়েছেন এবং কেউ কেউ দায়িত্ব থেকে সরে গেছেন।
এসএস




Comments