চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে মাদককারবারিদের দৌরাত্ম্য বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের অলিগলি ও বাজারে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতি রাতেই বসছে ‘মাদকের হাট’। সর্বশেষ গত ২৯ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) রাতে উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের আকিলপুর গ্রামে মাদক সেবনের প্রতিবাদ করায় মাদক নির্মূল কমিটির ৬ যুবককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে মাদকসেবীরা।
আহতরা হলেন- ইমাম হোসেন সোহেল, রাজ্জাক আলী, শহিদুল ইসলাম সজিব, ইমন ইয়াসিন, সালাউদ্দীন ও পারভেজ হোসেন। তাদের উদ্ধার করে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আয়ুব আলী নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে মাদক নির্মূল কমিটির ওই যুবকরা একটি বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে রাস্তার পাশে কয়েকজন মাদকসেবীকে মাতলামি করতে দেখে তারা বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাদকসেবীরা সংঘবদ্ধ হয়ে পেছন থেকে যুবকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
এ বিষয়ে মাদকবিরোধী সংগঠনের সভাপতি বাবুল মেম্বার বলেন, “মাদকসেবীরা পরিকল্পিতভাবে আমাদের কর্মীদের ওপর হামলা করেছে। তবে হামলা করে আমাদের দমানো যাবে না। সীতাকুণ্ড থেকে মাদক নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম চলবে। আমরা অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের তেলিপাড়া এখন মাদককারবারিদের নিরাপদ ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। সেখানে অন্তত সাতটি সক্রিয় স্পট রয়েছে। এছাড়া বাড়বকুণ্ড রেলগেট, সলিসপুর ইউনিয়নের ফকির হাট, ভাটিয়ারীর মাদামবিবির হাট, খাদেম পাড়া, সলিমপুরের দক্ষিণ সলিমপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। সম্প্রতি কুমিরা রেল স্টেশন এলাকায় মাদক নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে এক কারবারি গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহাবুদ্দিন রাজু বলেন, “মাদকের কারণে উঠতি বয়সী যুবসমাজ ধ্বংসের পথে। এসব স্পট থেকে চুরি, ছিনতাই ও কিশোর অপরাধ বাড়ছে। পুলিশকে আরও কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে।”
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “আকিলপুরে যুবকদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।”
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments