Image description

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বিএনপি-জমিয়ত জোটের প্রার্থীর অনুসারীদের বিরুদ্ধে ‘খেজুর গাছ’ প্রতীকের পক্ষে প্রকাশ্যে ভোট বাণিজ্যের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, হামলা ও খড়ের গাদায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে ডিমলা উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ঠাকুরের স্কুল এলাকায় এ নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপি-জমিয়ত প্রার্থী মাওলানা মনজুরুল ইসলাম আফেন্দীর ছোট ভাইয়ের নেতৃত্বে একটি প্রাইভেট কার ও ৪০টির বেশি মোটরসাইকেলে করে শতাধিক নেতাকর্মী স্থানীয় এক হিন্দু ব্রাহ্মণের বাড়িতে ঢোকেন। 

অভিযোগ উঠেছে, সেখানে তারা দরজা বন্ধ করে ভোটারদের মাঝে টাকা বিতরণ করছিলেন। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাবাসী প্রতিবাদ জানায় এবং মুহূর্তেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে দুর্বৃত্তরা পাশের একটি খড়ের গাদায় আগুন ধরিয়ে দিলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দা ও জামায়াত কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এর পরপরই বিএনপি-জমিয়ত কর্মীরা জামায়াত নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

হামলায় বালাপাড়া ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল মজিদ এবং কর্মী শরিফুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। তাদের ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আরও বেশ কয়েকজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আরিফুল ইসলাম (২৫) বলেন, “হঠাৎ এক মাইক্রোবাস ও ৪০-৫০টি মোটরসাইকেলে শতাধিক লোক এসে ঠাকুরবাড়িতে ঢুকে পড়ে। আমরা দেখতে গেলে দেখি তারা দরজা বন্ধ করে খেজুর মার্কার পক্ষে টাকা বিলি করছে। ভিডিও করতে চাইলে তারা আমাদের ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়। পরে জামায়াতের লোকজন এলে বাকবিতণ্ডা ও সংঘর্ষ শুরু হয়। এক পর্যায়ে তারা খড়ের গাদায় আগুন ধরিয়ে দেয়।”

আহত জামায়াত কর্মী শরিফুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই বিএনপির সাবেক বালাপাড়া ইউনিয়ন সভাপতি হামিদুল ইসলামের নির্দেশে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়। তারা আমাকে বেধড়ক মারধর করেছে।”

খবর পেয়ে ডিমলা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রওশন কবির পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিএনপি-জমিয়ত প্রার্থী মাওলানা মনজুরুল ইসলাম আফেন্দীর সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ডিমলা এলাকায় বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর