Image description

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় পৃথক দুটি ঝটিকা অভিযানে বিদেশি এসএলআর, রাইফেল ও পিস্তলসহ বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নাশকতাবিরোধী বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে এসব অস্ত্র উদ্ধার ও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পাবনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প সংলগ্ন ওয়াসা প্রজেক্টের গেস্ট হাউসের পাশের একটি টিনশেড স্টোররুমে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া উপজেলার শাহীন (২০) ও ঈশ্বরদীর দিয়ার বাঘইল গ্রামের হযরত প্রামাণিক (৪৭)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি সচল সেমি-অটোমেটিক সেলফ লোডেড রাইফেল (এসএলআর), ম্যাগাজিনসহ ৬৭ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, একটি বিদেশি ২২ বোর রাইফেল (ম্যাগাজিন ও কার্তুজসহ) এবং একটি কাঠের বাটযুক্ত একনলা বন্দুক উদ্ধার করা হয়।

পরবর্তীতে গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঈশ্বরদীর মানিকনগর পশ্চিমপাড়া এলাকায় দ্বিতীয় অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। সেখান থেকে মমিনুল ইসলাম খোকন (৩৩) নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেখানো মতে একটি পরিত্যক্ত পানির ট্যাংকির ভেতর থেকে একটি সচল ৯ এমএম পিস্তল, একটি ৭.৬৫ এমএম পিস্তল এবং দুই ধরনের পিস্তলের মোট ১৬ রাউন্ড কার্তুজ ও ৩১ রাউন্ড ১২ বোরের তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ জানান, কয়েকদিন ধরে নিবিড় গোয়েন্দা নজরদারির পর এই সফল অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধারণা করা হচ্ছে, গ্রেপ্তারকৃতরা ভাড়াটে সন্ত্রাসী হিসেবে নির্বাচনের আগে কোনো বড় ধরনের নাশকতা ঘটানোর পরিকল্পনা করছিল। এ ঘটনার নেপথ্যে থাকা গডফাদারদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

উদ্ধারকৃত অস্ত্রের ঘটনায় ঈশ্বরদী থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর