শাওনের মরদেহ উদ্ধার
শহীদ মিনারে প্রশাসনের গাড়ি আটকে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
ছিনতাইকারীদের ধাওয়ায় নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর আনন্দ মোহন কলেজের শিক্ষার্থী নুরুল্লাহ শাওনের (২৫) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ময়মনসিংহ। ২১শে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে আসা বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের গাড়ি আটকে দিয়ে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কয়েকশ শিক্ষার্থী।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ময়মনসিংহ নগরীর জয়নুল আবেদীন পার্কের বিপরীত দিকে ব্রহ্মপুত্র নদের চরে আটকে থাকা অবস্থায় শাওনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গত বুধবার বিকেলে বন্ধুর সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েছিলেন তিনি। প্রাণ বাঁচাতে দৌঁড় দেওয়ার সময় নিখোঁজ হন শাওন। দুই দিন ধরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তল্লাশি চালালেও তার কোনো সন্ধান পায়নি। অবশেষে শুক্রবার রাতে স্থানীয়রা তার মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়।
মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে মধ্যরাতে আনন্দ মোহন কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় দুই থেকে তিনশ শিক্ষার্থী টাউন হল চত্বরে জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এসময় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে আসা বিভাগীয় কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের গাড়ি বহর শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়ে এবং আটকে যায়। রাত ১২টা ১ মিনিটে শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষার্থীদের অবরোধের মুখে স্থবির হয়ে পড়ে কার্যক্রম।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা আশেপাশের সব রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। তাদের দাবি, শাওনের মৃত্যুর জন্য দায়ী ছিনতাইকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অপরাধীদের গ্রেপ্তারের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না বলে হুঁশিয়ারি দেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবদুল্লাহ আল মামুন শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, "প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পানিতে ডুবেই শাওনের মৃত্যু হয়েছে। তবে ছিনতাইকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ সর্বাত্মক কাজ করছে। দ্রুতই আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে।"
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments