Image description

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশছোঁয়া। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশে প্যানিক বাইং শুরু হলে ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভিড় জমেছে। আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল কেনার প্রবণতায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) শুক্রবার থেকে যানবাহনভিত্তিক দৈনিক তেল কেনার সীমা বেঁধে দিয়েছে।

এতে রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারের দীর্ঘ সারি পড়েছে। অনেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চাহিদামতো তেল পাচ্ছেন না। রাইডশেয়ার চালকদের জন্য এটি সবচেয়ে বড় কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রমনা ফিলিং স্টেশনে ৪০ মিনিট অপেক্ষা করে অকটেন নেওয়া রাইডশেয়ার চালক অপূর্ব বিশ্বাস বলেন, “তেল নিতে নিতে দিনের অর্ধেক সময় পার হয়ে যায়। বাকি সময়ের ভাড়া দিয়ে কি আর পোষায়?” আগে দিনে দু’বার তেল নিলেই চলত, এখন ২ লিটার সীমার কারণে চার-পাঁচবার লাইনে দাঁড়াতে হয়।

মালিবাগের হাজীপাড়া ফিলিং স্টেশনে এক ঘণ্টারও বেশি অপেক্ষা করা উবারচালক মো. রবিউল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আগে এক-দু’বার তেল নিয়ে সারাদিন চলতাম। এখন চার-পাঁচবার তেল নিতে প্রায় ছয় ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হয়। ৬ ঘণ্টা বাইক চালাই, ৬ ঘণ্টা তেলের জন্য দাঁড়াই।”

পরীবাগের মেঘনা মডেল সার্ভিসিং সেন্টারে লাইন ২০০-৩০০ মিটার ছাড়িয়ে যায়। দেড় ঘণ্টা অপেক্ষা করে তেল নেওয়া উবারচালক মাসুদুর রশিদ বলেন, “এই ভোগান্তির কবে শেষ হবে জানি না। আগে যেখানে ১০০০-১২০০ টাকা ভাড়া পেতাম, এখন ৫০০-৬০০ টাকাও পেতে কষ্ট হয়।”

কিছু ফিলিং স্টেশনে তেল শেষ হয়ে বিক্রি বন্ধ হয়েছে। পরীবাগের পূর্বাচল ট্রেডার্সে বেলা ২টায় ‘পেট্রল/অকটেন নেই’ বোর্ড টাঙানো হয়। হিসাবরক্ষক জাফর আহমেদ বলেন, “ছুটির দিনে ডিপো থেকে তেল আসে না। অতিরিক্ত চাহিদায় শুক্রবারই তেল শেষ হয়ে গেছে।”

তবে কেউ কেউ সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক দেখছেন। হাজীপাড়ায় তেল নিতে আসা জাওয়াদ আল জাফির বলেন, “সীমা বেঁধে দেওয়ায় অতিরিক্ত মজুদ করা যাবে না। এতে সংকট তৈরি হবে না।”

বিপিসির নির্দেশনা অনুযায়ী, একটি মোটরসাইকেলে দিনে ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন নিতে পারবে। ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রে নেওয়া যাবে ১০ লিটার তেল। মাইক্রোবাস দিনে পাবে ২০ থেকে ২৫ লিটার তেল। পিকআপ/লোকাল বাসে ৭০-৮০ লিটার ডিজেল। দূরপাল্লার বাস/ট্রাকে ২০০-২২০ লিটার ডিজেল।  

রমনা ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক মো. ওসমান বলেন, “সরকারের নিয়ম মেনে তেল বিক্রি করছি। আশা করি সংকট হবে না।”

মানবকণ্ঠ/ডিআর