পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের চাপে পদ্মা সেতুতে টোল আদায়ের নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। গত মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মাত্র তিন দিনে সেতুতে ১৩ কোটি ২১ লাখ ৫১ হাজার ৮০০ টাকা টোল আদায় হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, এই তিন দিনে পদ্মা সেতুর মাওয়া ও জাজিরা প্রান্ত দিয়ে মোট ১ লাখ ১৯ হাজার ৬৮২টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। অথচ ২০২৫ সালের একই সময়ে যানবাহন পারাপারের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৮০২টি এবং টোল আদায়ের পরিমাণ ছিল ১২ কোটি ৭৮ হাজার ৪০০ টাকা। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এবার যানবাহন চলাচল এবং রাজস্ব আদায়—উভয় ক্ষেত্রেই বড় প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।
তথ্যাদি অনুযায়ী, ১৭ মার্চ (মঙ্গলবার) ৩৮ হাজার ৫১৭টি যানবাহন থেকে ৪ কোটি ১৮ লাখ ৬০ হাজার ৯০০ টাকা টোল আদায় হয়। ১৮ মার্চ (বুধবার) ৪১ হাজার ৮৮৫টি যানবাহন পারাপারে আয় হয় ৪ কোটি ৫৪ লাখ ৫ হাজার ২৫০ টাকা। আর ১৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার) ৩৯ হাজার ২৮০টি যানবাহনের বিপরীতে ৪ কোটি ৪৮ লাখ ৮৫ হাজার ৬৫০ টাকা টোল সংগৃহীত হয়েছে।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক মো. মাসুদ রানা শিকদার এবং নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাদ নিলয় এই মাইলফলক অর্জনের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, সুপরিকল্পিত প্রস্তুতি ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনার ফলেই রেকর্ড পরিমাণ যানবাহন পারাপার করা সম্ভব হয়েছে।
সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) আলতাফ হোসেন শেখ বলেন, ‘টোল প্লাজায় একাধিক লেন সচল রাখায় দ্রুতগতিতে যানবাহন পারাপার নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ও সেতু এলাকায় আগের মতো কোনো যানজট নেই, যাত্রীসাধারণ অত্যন্ত স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছেন।’
পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে প্রতি বছরই ঈদযাত্রায় টোল আদায়ে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হচ্ছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ যাতায়াত ব্যবস্থা ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments