নিজের ঘুমন্ত ছেলেসহ তিনজনকে কুপিয়ে আত্মহত্যা করলেন পুলিশ কনস্টেবল
লক্ষ্মীপুরে নিজের ঘুমন্ত ছেলেসহ তিনজনকে কুপিয়ে ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে অবসরপ্রাপ্ত ট্রাফিক পুলিশ কনস্টেবল নাছির আহমদ। সোমবার সকালে লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের বাঞ্চানগর এলাকার পেশকার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আহত কনস্টেবল নাছিরকে উদ্ধার করে সদরে ভর্তি করালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। কুপিয়ে জখম হওয়া আহতদেরকে প্রথমে সদর হাসপাতালে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পাঠানো হয়।
ঘটনা সূত্রে জানাগেছে, কনস্টেবল নাছির ঘুমন্ত অবস্থায় তার ছেলে কলেজ ছাত্র ইমরান আহমেদকে কুপিয়ে আহত করেন। একপর্যায়ে সে উলঙ্গ অবস্থায় বাসা থেকে বের হলে প্রতিবেশী মিজানুর রহমান স্বপন তাকে লুঙ্গি পরিয়ে দিতে যান। এ সময় স্বপনকেও কুপিয়ে আহত করে হয়। তাদের রক্ষা করতে গেলে প্রতিবেশী আরও একজনকে কুপিয়ে আহত করেন ট্রাফিক কনস্টেবল নাছির।
নিহত কনস্টেবল নাছির চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার পূর্ব এখলাসপুর গ্রামের আরশাদ আলীর ছেলে। সপরিবারে তিনি প্রায় সাত বছর ধরে ঘটনাস্থলে ভাড়া বাসায় থাকেন।
পুলিশ জানায়, গত রাতে ইমরান ও তার বাবা বাসায় ছিলেন। এর মধ্যে নাছির অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাতে ছেলে তাকে ওষুধ এনে খাইয়েছেন। সকালে ঘুমন্ত অবস্থায় ইমরানকে দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপান নাছির। একপর্যায়ে ইমরান রক্তাক্ত অবস্থায় বাসা থেকে বের হয়ে এলে প্রতিবেশী স্বপন তাকে লুঙ্গি পরিয়ে দিতে যান। এ সময় নাছির দা দিয়ে স্বপনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করেন। ঘটনাটি দেখতে পেয়ে নাছির নামে একজন তাদের বাঁচাতে যান। কনস্টেবল নাছির তাকেও কুপিয়ে আহত করেন। পরে কনস্টেবল তিনতলা ভবন থেকে লাফিয়ে পড়েন। তাকেসহ আহতদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা চিকিৎসাধীন থাকার পর কনস্টেবল নাছির মারা যান। আহত স্বপন ও ইমরানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অপর আহত নাছিরকে সদর হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে।
সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) অরুপ পাল বলেন, আহত অবস্থায় চারজনকে হাসপাতালে আনা হয়। এর মধ্যে কনস্টেবল নাছির চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। আহত অন্যদের মধ্যে দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানান লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী।




Comments