রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে চলা টেন্ডারবাজি, নিয়োগ বাণিজ্য ও সিন্ডিকেট শাসনের অবসান ঘটিয়ে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজশাহী। সোমবার (১৩ এপ্রিল) বেলা ১২টায় মহানগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে ‘রাজশাহীবাসী’র ব্যানারে আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধনে এই দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, রামেক হাসপাতালে একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ রোগী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের জিম্মি করে রেখেছে। সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে হিসেবে তারা হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. হাছানুল হাবিব, সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. আবু তালেব এবং পরিচালকের পিএ এস.এম রাশিদুল সালেকিন (সুমন)-এর নাম উল্লেখ করেন। বক্তাদের দাবি, এই চক্রটি ২০০৪ সাল থেকে হাসপাতালের বিভিন্ন টেন্ডার ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে আসছে।
রিভারসিটি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা রাব্বানীর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন রাজপাড়া থানা বিএনপির সহ-সভাপতি গোলাম মর্তুজা, সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনার রশিদ, বিএনপি নেতা খাইরুল ইসলাম, সাংবাদিক খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান রেজা, লোকনাথ স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. সাহাবুদ্দিন এবং বিটিসি নিউজের চেয়ারম্যান আনোয়ার আক্তার কাজলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বক্তারা বলেন, “বিগত সরকারের আমলে গড়ে ওঠা এই সিন্ডিকেট বর্তমান সময়েও সক্রিয় থেকে চিকিৎসা খাতকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। সম্প্রতি হাসপাতালে ৩৩ জন শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে সমালোচনা হলেও এই চক্রটি কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি, বরং নিজেদের পিঠ বাঁচাতে ব্যস্ত ছিল।”
মানববন্ধনে নিয়োগ বাণিজ্যের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে বলা হয়, ২০২৪ সালে রাজপাড়া এলাকার শরীফা বেগম নামে এক নারীর কাছ থেকে পরিচ্ছন্নকর্মী পদে চাকরি দেওয়ার নামে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। তাকে আইডি কার্ড ও পোশাক দেওয়া হলেও কোনো বেতন দেওয়া হয়নি, উল্টো তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আদালতে মামলা হলেও এখনো কোনো প্রতিকার মেলেনি।
এছাড়া ওয়ার্ড মাস্টার শহিদুলের বিরুদ্ধে হাসপাতালের কোয়ার্টারে অবৈধভাবে অতিরিক্ত ইউনিট ব্যবহারের অভিযোগ তুলে ধরে বক্তারা বলেন, সাধারণ মানুষ যখন নূন্যতম চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না, তখন এই চক্রটি হাসপাতালের সম্পদ লুটপাটে ব্যস্ত।
অভিযোগের বিষয়ে সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. আবু তালেব বলেন, “সার্বিক বিষয়টি পরিচালক মহোদয় দেখেন।” তবে উপ-পরিচালক ডা. হাছানুল হাবিব ও পিএ সুমনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবিলম্বে এই ‘দুর্নীতিবাজ’ কর্মকর্তাদের অপসারণ করে হাসপাতালকে সিন্ডিকেটমুক্ত করতে হবে। অন্যথায় সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ঘেরাওসহ আরও কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments