Image description

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় সাম্প্রতিক ঝড়, শিলাবৃষ্টি ও কালবৈশাখীর তাণ্ডবে দেশের অন্যতম জিআই (ভৌগোলিক নির্দেশক) পণ্য ‘হাড়িভাঙ্গা’ আম ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। স্থানীয় চাষিদের দাবি, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ইতিমধ্যে ২০ শতাংশের বেশি আমের গুটি ঝরে গেছে, যা চলতি মৌসুমে আম উৎপাদনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের শঙ্কা তৈরি করেছে।

চাষিরা জানান, আম পুরোপুরি বড় হওয়ার আগেই বাগানগুলোতে মড়ক লেগেছে। ফলে বাগান মালিক ও লিজ নেওয়া উদ্যোক্তারা চরম আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। তাদের অনেকেই ব্যাংক ঋণ কিংবা ধারদেনা করে বাগান পরিচালনা করছেন। এখন আমের ন্যায্য দাম না পেলে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়বেন তারা।

ক্ষতির চিত্র কেবল ঝরে পড়া আমেই সীমাবদ্ধ নয়। গত ২৬ ও ২৭ এপ্রিলের ভারী শিলাবৃষ্টিতে গাছে থাকা আমের গায়ে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। চাষিদের মতে, বর্তমানে গাছে যে পরিমাণ আম অবশিষ্ট আছে, তার প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ক্ষতিগ্রস্ত। এসব আম পরিপক্ব হওয়ার আগেই পচে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

‘হাড়িভাঙ্গার রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত মিঠাপুকুরের পদাগঞ্জ এলাকায় এবার টনকে টন আম ঝরে পড়েছে। এতে বাজারে সরবরাহে টান পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় সুস্বাদু এই আমের দাম সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও অনলাইন উদ্যোক্তারা।

স্থানীয় আম চাষি আব্দুল কুদ্দুস ও লিজ নেওয়া বাগান মালিক সোহেল রানা জানান, ঝড়-শিলাবৃষ্টিতে তাদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেছে। সরকারিভাবে প্রণোদনা বা সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা না করলে আগামীতে চাষাবাদ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হবে।

স্থানীয় অনলাইন উদ্যোক্তা রাব্বি ও রিফাত জানান, উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ কম থাকবে। ফলে আমের দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তারা চান চাষিরা যেন ন্যায্য মূল্য পান এবং ভোক্তারাও যেন সহনীয় দামে আম কিনতে পারেন।

ক্ষতিগ্রস্ত আম চাষিরা বর্তমানে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর