দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করায় এবং আগামী কয়েক দিনে ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা না থাকায় তিন দিনের মধ্যে পরিস্থিতির আরও উন্নতি হতে পারে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
শুক্রবার (৮ মে) প্রকাশিত নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়, সকাল ৯টা পর্যন্ত সুনামগঞ্জের নলজুর নদীর পানি জগন্নাথপুর পয়েন্টে প্রাক-মৌসুমী বিপৎসীমার ৫২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। জেলার হাওরাঞ্চলে নদীর পানি ঘণ্টায় শূন্য থেকে ১ সেন্টিমিটার হারে ধীরে কমছে।
নেত্রকোণার বিভিন্ন নদীতেও পানি এখনও বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে। ধনু-বাউলাই নদীর পানি খালিয়াজুড়ি পয়েন্টে ৭ সেন্টিমিটার, ভূগাই-কংস নদী জারিয়াজঞ্জাইল পয়েন্টে ৬২ সেন্টিমিটার, সোমেশ্বরী নদী কলমাকান্দা পয়েন্টে ৩৬ সেন্টিমিটার এবং মগরা নদী নেত্রকোণা পয়েন্টে ৭৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে হবিগঞ্জে কালনি-কুশিয়ারা নদীর পানি আজমিরীগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার এবং সুতাং নদী সুতাং রেলওয়ে ব্রিজ পয়েন্টে ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও উজানে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়নি। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বৈশ্বিক আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, আগামী তিন দিন হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও ভারী বর্ষণের আশঙ্কা নেই। ফলে হাওরাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে পারে।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনজুর রহমান বলেন, বর্তমানে বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে এবং পানি ধীরে নামছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে আরও উন্নতি হতে পারে।
এছাড়া সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, কিশোরগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন নদীর পানি সমতল আগামী কয়েক দিনে স্থিতিশীল বা কমতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ কিছুটা কমার আশা করা হচ্ছে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments