Image description

বাঙালি সংস্কৃতিতে পহেলা বৈশাখ ও হালখাতার আমেজ শেষ হতে না হতেই প্রকৃতিতে হাজির হয় মধুমাস জ্যৈষ্ঠ। আম, জাম, কাঁঠাল আর আনারসের সঙ্গে এই মাসের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ রসালো লিচু। স্বাদে ও গন্ধে অতুলনীয় হওয়ায় গাজীপুরের শ্রীপুরের লিচুর দেশজুড়ে খ্যাতি রয়েছে। তবে চলতি মৌসুমে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে লিচুর আশানুরূপ ফলন না হওয়ায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় চাষিরা।

শ্রীপুর পৌরসভা ও উপজেলার কেওয়া, টেপিরবাড়ি, তেলিহাটি ও উজিলাবসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ বাগানেই লিচুর ফলন গত বছরের তুলনায় অনেক কম। চাষিদের ভাষ্যমতে, অতিরিক্ত তাপদাহ, তীব্র গরম এবং অনিয়মিত বৃষ্টির কারণে গাছের মুকুল ঝরে গেছে। ফলে অনেক গাছেই কাঙ্ক্ষিত লিচু নেই।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে শ্রীপুর উপজেলায় প্রায় ৭২৮ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ করা হয়েছে। এবার লিচু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৪ হাজার মেট্রিক টন। এখানে চায়না-৩, বোম্বাই, পাতি ও কদমি জাতের লিচুর ফলন বেশি হয়।

উজিলাব গ্রামের লিচু চাষি জহিরুল ইসলাম জানান, তার ৬ বিঘা জমিতে লিচু বাগান রয়েছে। মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় এবং অতিরিক্ত তাপদাহে লিচুর মুকুল নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে এবার বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন তিনি। কেওয়া গ্রামের আরেক চাষি আমান উল্লাহ বলেন, “গত বছরের তুলনায় ফলন অনেক কম। অপরিকল্পিত শিল্পায়নের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়াকেও ফলন বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে দেখছেন তিনি।”

তবে অনেক চাষি আশাবাদী যে, আগামী ২ থেকে ৩ সপ্তাহের মধ্যে শ্রীপুরের লিচু পুরোদমে বাজারে আসবে। যদি বাজারে সঠিক দাম পাওয়া যায়, তবে ফলন কম হলেও আর্থিক ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বন্যা বলেন, “উপজেলা কৃষি অফিস থেকে চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া ও পরিবেশগত কারণে কিছু বাগানে ফলন কম হলেও অনেক বাগানে আবার বাম্পার ফলন হয়েছে। লিচুর উৎপাদন বাড়াতে আমরা সরকারিভাবে চাষিদের পাশে আছি।”

মানবকণ্ঠ/ডিআর