মধুখালীতে টিকটক প্রেমে বিয়ে, স্ত্রীকে পাটক্ষেতে নিয়ে রাতভর নির্যাতন ও হত্যার চেষ্টা
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় টিকটকে পরিচয়ের সূত্রে প্রেমের পর বিয়ে করে এক নববধূ চরম নৃশংসতার শিকার হয়েছেন। ভুক্তভোগী ওই নারীকে নির্জন পাটক্ষেতে নিয়ে রাতভর নির্যাতন ও চোখ উপড়ে ফেলে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে।
রোববার (১৭ মে) মধুখালী উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের কুড়ানিয়ারচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত স্বামী প্রান্ত শেখ (২২) ওই গ্রামের মজিবর শেখের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টিকটকের মাধ্যমে পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের রশিদ শেখের মেয়ে রোকেয়া বেগমের (২৬) সঙ্গে গাজীপুরে পরিচয় হয় প্রান্ত শেখের। দেড় মাস আগে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।
ভুক্তভোগী রোকেয়া বেগম জানান, গত শুক্রবার (১৫ মে) রাতে স্বামী প্রান্ত তাকে গাজীপুর থেকে গ্রামের বাড়িতে নেওয়ার কথা বলে মধুখালীতে নিয়ে আসেন। রাত আনুমানিক ২টার দিকে মধুখালী রেলগেট এলাকায় বাস থেকে নামার পর তাকে কুড়ানিয়ারচর এলাকার একটি নির্জন পাটক্ষেতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রাতভর তার ওপর পাশবিক শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে হত্যার উদ্দেশ্যে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড়ে জখম করা হয় এবং চোখ উপড়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়। প্রাণ বাঁচাতে রোকেয়া সেখান থেকে পালিয়ে পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন।
শনিবার সকালে স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পেরে গ্রাম পুলিশ ও ইউনিয়ন পরিষদকে অবহিত করলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. অন্তরা রায় চৈতি জানান, রোকেয়ার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মধুখালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তন্ময় কুমার জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় নথিপত্র হাতে পেলে দ্রুত মামলা দায়ের করা হবে।
মধুখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শুকদেব রায় জানান, এ ঘটনায় স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতন ও হত্যার চেষ্টার একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments