Image description

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার অন্যতম বৃহত্তম পশুর হাট 'গুপি রায়ের হাট' ইজারা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সরকারের প্রায় আড়াই কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সিন্ডিকেটের কারণে গত বছরের তুলনায় এ বছর নামমাত্র মূল্যে হাটটি ইজারা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় ও সাধারণ ব্যবসায়ীরা।

উপজেলার জরাইতলা ইউনিয়নে অবস্থিত এই হাটটি কিশোরগঞ্জ জেলার অন্যতম প্রধান পশুর বাজার হিসেবে পরিচিত। প্রতি বুধবার বসা এই হাটে হাজার হাজার গরু, মহিষ ও ছাগল কেনাবেচা হয়। তুলনামূলক দাম কম হওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্রেতা-বিক্রেতারা এই হাটে আসেন। ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই হাটটি বর্তমানে জেলার রাজস্ব আয়ের একটি বড় উৎস।

জানা গেছে, বাংলা ১৪৩২ সনে এই হাটটি ৩ কোটি ৭৫ লাখ ৫০ হাজার ৮০০ টাকায় ইজারা নিয়েছিলেন সাজনপুর গ্রামের মোহাম্মদ জমশেদ আলী। তবে ১৪৩৩ সনের জন্য হাটটি মাত্র ১ কোটি ২৫ লাখ টাকায় ইজারা পেয়েছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা মোকাররম হোসেন সরদার। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় সরকার এবার ২ কোটি ৫০ লাখ টাকারও বেশি রাজস্ব হারিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হাটের প্রকৃত আয় গোপন করে প্রশাসনের যোগসাজশে কম মূল্যে ইজারা দেওয়া হয়েছে। ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এই হাটে একটি বিশেষ সিন্ডিকেট সক্রিয় ছিল। ক্ষমতার পটপরিবর্তন হলেও সেই সিন্ডিকেট প্রথা ভাঙতে পারছে না প্রশাসন। একটি প্রভাবশালী মহল ব্যক্তিগত স্বার্থে এই রাজস্ব ক্ষতির পথ তৈরি করেছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

সাবেক ইজারাদার জমশেদ আলী জানান, "গত বছর প্রায় ৪ কোটি টাকায় ইজারা নিয়ে সরকারের সব টাকা পরিশোধ করেও আমার অনেক লাভ হয়েছিল। কিন্তু এ বছর স্থানীয় প্রশাসনের নানা জটিলতা ও অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার পায়তারার কারণে আমি ইজারা প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে নিরুৎসাহিত হয়েছি।"

বর্তমান ইজারাদার মোকাররম হোসেন সরদার বলেন, "আমি সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ইজারা পেয়েছি। এ বিষয়ে আমার কোনো বাড়তি বক্তব্য নেই।"

এ বিষয়ে নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. রেহেনা মজুমদার মুক্তি জানান, "নির্ধারিত সময়ে দরপত্র আহ্বানের পর ১ কোটি ২৫ লাখ টাকায় মোকাররম হোসেন সর্বোচ্চ দরদাতা হওয়ায় তাকে ১৪৩৩ সনের জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছে।" গত বছরের তুলনায় দর এত কম কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি করেন, এর আগের বছরগুলোতে দর আরও কম ছিল।

মানবকণ্ঠ/ডিআর