Image description

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় ২০২২ সালে বিএনপির কর্মসূচিতে নির্বিচারে গুলিবর্ষণের ঘটনায় তৎকালীন দুই ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও ১৪ পুলিশ সদস্যসহ ৩২ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ২৪ মে পাকুন্দিয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাজহারুল হক উজ্জ্বল বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন।

আদালত সোমবার (১ জুন) মামলাটি আমলে নিয়ে এফআইআর (প্রাথমিক তথ্য বিবরণী) হিসেবে গণ্য করার জন্য পাকুন্দিয়া থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৯০ থেকে ১১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন—পাকুন্দিয়া থানার তৎকালীন ওসি সারোয়ার জাহান, তৎকালীন ওসি (তদন্ত) নাহিদ হাসান সুমন এবং ১৪ জন উপ-পরিদর্শক (এসআই)। এছাড়া আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১৭ জন নেতাকর্মীকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার ও বাদী মাজহারুল হক উজ্জ্বলের ভাষ্যমতে, ২০২২ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে দেশব্যাপী বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচি ছিল। ওইদিন পাকুন্দিয়া উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনগুলো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিল। এসময় তৎকালীন ওসি সারোয়ার জাহানের নির্দেশে পুলিশ সদস্যরা নেতাকর্মীদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে। পুলিশের সাথে লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও হামলায় অংশ নেয়।

হামলায় পুলিশের ছোঁড়া রাবার বুলেট ও স্প্লিন্টারে বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। গুরুতর আহতদের মধ্যে শ্রাবণের শরীরে অসংখ্য ছররা গুলি লাগে এবং আব্দুল জলিল নামের এক কর্মী তার একটি চোখ হারান।

বাদী মাজহারুল হক উজ্জ্বল বলেন, "তৎকালীন ওসি সারোয়ার জাহান নিজেকে ছাত্রলীগের নেতা হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং তিনি শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে কোনো কর্মসূচি পালন করতে দিতেন না। তার নির্দেশে আমাদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছিল। অনেক নেতাকর্মী এখনো পঙ্গুত্ব বরণ করে সেই ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন। দেরিতে হলেও ন্যায়বিচারের আশায় আমরা আইনের আশ্রয় নিয়েছি।"

৫ আগস্ট পরবর্তী পরিস্থিতি এবং সংসদ নির্বাচনসহ নানা কারণে মামলাটি করতে বিলম্ব হয়েছে বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পাকুন্দিয়া থানার বর্তমান পুলিশ জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর