আজ ৩ জুন (বুধবার), বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস। ২০১৮ সালে জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটি ঘোষণার পর থেকে প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব যানবাহন হিসেবে সাইকেলের গুরুত্ব তুলে ধরতে দিনটি পালন করা হয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন সাইক্লিং সংগঠন এবং সাধারণ রাইডাররা র্যালি ও বর্ণাঢ্য সাইকেল রাইডের মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অধ্যাপক লেসজেক সিবিলস্কির দীর্ঘ প্রচারাভিযান ও একাডেমিক প্রকল্পের ফসল এই দিবস। তাঁর উদ্যোগের প্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের ১২ এপ্রিল জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্র সর্বসম্মতিক্রমে ৩ জুনকে বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এই প্রস্তাবে তুর্কমেনিস্তানসহ ৫৬টি দেশ সহ-পৃষ্ঠপোষকতা করেছিল।
এ বছরের দিবসের মূল প্রতিপাদ্য জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) কেন্দ্রিক। সাইকেল কেবল একটি দ্বিচক্র যান নয়, বরং এটি সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বড় হাতিয়ার। গবেষণা বলছে, যদি কোনো শহরের মোট যাতায়াতের ১০ শতাংশ সাইকেলে সম্পন্ন হয়, তবে বছরে কার্বন নির্গমন প্রায় ১১ শতাংশ কমানো সম্ভব। পেট্রোল ও ডিজেলচালিত যানবাহন যেখানে প্রতিনিয়ত বায়ু দূষণ করছে, সেখানে একটি সাইকেল কার্বন নিঃসরণ রাখে শূন্যের কোঠায়।
রাজধানী ঢাকার অসহনীয় যানজট, তীব্র বায়ু দূষণ এবং জ্বালানি সংকটের ভিড়ে বাইসাইকেল হতে পারে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত সমাধান। এটি এমন এক সাশ্রয়ী যান যা ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সমাজের সব স্তরের মানুষ ব্যবহার করতে পারে। ছোট দূরত্বে যাতায়াতের জন্য সাইকেল ব্যবহারের ফলে ট্রাফিক জ্যাম যেমন কমে, তেমনি রাইডারের শারীরিক সক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়।
বিশ্ব বাইসাইকেল দিবসের মূল বার্তা হলো—‘সাইকেল পরিবেশের জন্য, স্বাস্থ্যের জন্য এবং সবার জন্য’। পরিবেশবাদীরা মনে করছেন, সরকার যদি প্রধান সড়কগুলোতে সাইকেলের জন্য আলাদা ‘লেন’ নিশ্চিত করতে পারে, তবে বাংলাদেশে সাইক্লিং কালচার আরও জনপ্রিয় হবে এবং একটি সবুজ ও বাসযোগ্য শহর গড়ে তোলা সহজ হবে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments