কসবায় স্টেশন মাস্টারকে পিটিয়ে অফিস ভাঙচুর, ট্রেন চলাচল বন্ধ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা রেলওয়ে স্টেশনের কর্তব্যরত স্টেশন মাস্টারের ওপর অতর্কিত হামলা ও অফিস ভাঙচুর করেছে এক যুবক। রোববার (২১ জুন) সকালে এ ঘটনার পর হামলাকারীকে আটক করেছে পুলিশ। এই ঘটনার জেরে নোয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আন্তঃনগর ‘উপকূল এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি প্রায় ৪৫ মিনিট স্টেশনে আটকা পড়ে।
আটককৃত যুবকের নাম সুমন। সে কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের রৌশন মিয়ার ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, নোয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ‘উপকূল এক্সপ্রেস’ ট্রেনের ইঞ্জিনে মাছের পোনা নিয়ে বসেছিলেন এক ব্যক্তি। ওই ব্যক্তির কাছ থেকে কে বা কারা ১০০ টাকা দাবি করে নিয়ে নেয়। এই ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে সুমন নামের ওই যুবক কসবা রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার সফিকুল রহমানের কক্ষে গিয়ে উত্তেজিত হয়ে কথা বলতে থাকে। বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে সুমন কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই স্টেশন মাস্টারের ওপর হামলা চালায়।
হামলাকারী যুবক স্টেশন মাস্টারকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি স্টেশনের অফিস টেলিফোন এবং সিগন্যালিং সরঞ্জামসহ মূল্যবান আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এ সময় স্টেশনে উপস্থিত যাত্রী ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাকে হাতেনাতে আটক করে। ঘটনার পর যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং নিরাপত্তার খাতিরে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলে পৌনে এক ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
আহত স্টেশন মাস্টার সফিকুল রহমানকে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
আখাউড়া রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কুদ্দুস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হামলাকারীকে আটক করেছে। বর্তমানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। রেলওয়ে পুলিশ হামলার কারণটি আরও নিবিড়ভাবে তদন্ত করছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments