Image description

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা সরকারি খাদ্য গুদামে চলতি বোরো মৌসুমে ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজনের তুলনায় পাটের বস্তার তীব্র সংকট এবং পর্যাপ্ত জায়গার অভাবে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সংগ্রহ অভিযানে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। এতে ধান বিক্রি করতে এসে অনেক কৃষককে বিফল মনোরথে ফিরে যেতে হচ্ছে।

ভুক্তভোগী কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দূর-দূরান্ত থেকে ধান নিয়ে গুদামে আসার পর তাদের জানানো হচ্ছে যে ধান রাখার মতো পর্যাপ্ত বস্তা নেই। কৃষক মজিবর রহমান জানান, "ধান প্রস্তুত করে গুদামে নিয়ে এসেছি, কিন্তু বস্তা নেই বলে আমাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন কয়েক দিন পর আবার আসতে হবে, এতে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ছে।" একই অভিযোগ করেন কৃষক আব্দুল কাদের ও রফিকুল ইসলাম। তারা দ্রুত বস্তার ব্যবস্থা করে কৃষকদের ভোগান্তি কমানোর দাবি জানান।

চান্দাইকোনা খাদ্য গুদামের দায়িত্বপ্রাপ্ত খাদ্য পরিদর্শক তন্ময় বিশ্বাস সমস্যার কথা স্বীকার করে বলেন, "চাহিদার তুলনায় বস্তার বরাদ্দ একেবারে অপ্রতুল। বোরো মৌসুমে ধান সংগ্রহের জন্য ৫০ কেজির প্রায় ১২ হাজার এবং চালের জন্য ৩০ কেজির প্রায় ২ লাখ বস্তার প্রয়োজন। কিন্তু পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় সংগ্ৰহ কার্যক্রম জটিল হয়ে পড়েছে।" তিনি আরও জানান, বস্তা সংকটের পাশাপাশি গুদামে জায়গার সীমাবদ্ধতাও একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গুদাম সূত্র মতে, চলতি মৌসুমে চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ১২ হাজার ১১৪ মেট্রিক টন হলেও এখন পর্যন্ত সংগৃহীত হয়েছে ৬ হাজার ২৫৫ মেট্রিক টন। অন্যদিকে, ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ১ হাজার ৯৩২ মেট্রিক টন থাকলেও মাত্র ৩২৫ মেট্রিক টন সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে।

রায়গঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. সিরাজুল ইসলাম সরকার জানান, বস্তা সংকট মোকাবিলায় পুরোনো বস্তা ব্যবহার এবং বিভিন্ন স্থানের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ চালানোর চেষ্টা চলছে। তবে গুদামে জায়গার স্বল্পতা লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর