Image description

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দুটি দাখিল মাদরাসার সুপারের বিরুদ্ধে ভুয়া নিয়োগ বোর্ড গঠন ও জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে এমপিও আবেদনের অভিযোগে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ জারি করেছে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। গুরুতর এই জালিয়াতির দায়ে তাদের বেতন-ভাতা কেন স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

শোকজপ্রাপ্তরা হলেন—পূর্ব ফরিদাবাদ ইউনুছিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার মো. জাফর উদ্দিন এবং চর শশীভূষণ হোসাইনিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার মো. ওমর ফারুক।

মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অফিস আদেশ সূত্রে জানা গেছে, নতুন এমপিওভুক্তির আবেদন যাচাই-বাছাইকালে এই দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভয়াবহ জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া যায়। তদন্তে দেখা গেছে, তারা মহাপরিচালকের (ডিজি) প্রতিনিধির নামে জাল চিঠি তৈরি, ভুয়া নিয়োগ বোর্ড গঠন, জাল ফলাফলপত্র প্রস্তুত এবং ডিজি প্রতিনিধির স্বাক্ষর জাল করে এমপিও’র আবেদন পাঠিয়েছেন।

অধিদপ্তরের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পূর্ব ফরিদাবাদ ইউনুছিয়া দাখিল মাদরাসায় মো. মিরাজ হোসেন এবং চর শশীভূষণ হোসাইনিয়া দাখিল মাদরাসায় আফফান নামে একজনকে সম্পূর্ণ বিধিবহির্ভূতভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই জালিয়াতি ধরা পড়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নতুন এমপিও আবেদন বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।

এমপিও নীতিমালা-২০২১ অনুযায়ী, অভিযুক্ত দুই সুপারের বর্তমান বেতন-ভাতা কেন স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে না, সে বিষয়ে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।

এ ঘটনায় স্থানীয় শিক্ষা অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মানবকণ্ঠ/ডিআর