হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার খোজারগাঁও গ্রামে আধিপত্য বিস্তার ও দীর্ঘদিনের নারী-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে এক ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আব্দুল্লাহ (৪২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলার খোজারগাঁও গ্রামে এ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটে। নিহত আব্দুল্লাহ ওই গ্রামের মৃত লাল মিয়ার ছেলে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, খোজারগাঁও গ্রামের আব্দুল হকের বোন রেজিয়া খাতুনের মেয়ে সুহেনা আক্তার সম্প্রতি এক সন্তানের জননী হওয়া সত্ত্বেও অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে চলে যান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং আব্দুল হকের গোষ্ঠীর ওপর স্থানীয় কিছু লোক চাপ সৃষ্টি করে। এর আগে গত মে মাসেও একই পরিবারের তামান্না আক্তার নামে এক গৃহবধূ তার দেবর ফয়ছলের সঙ্গে চলে যাওয়ার ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চরমে পৌঁছায়।
শনিবার বিকেলে এই বিষয়গুলো নিয়ে আব্দুল হক ও তার ভাগ্নে মোস্তাকিমের সঙ্গে আব্দুল্লাহ ও তার সমর্থকদের বাকবিতণ্ডা হয়। স্থানীয়রা শুরুতে পরিস্থিতি শান্ত করলেও মাগরিবের নামাজের সময় উভয় পক্ষ পুনরায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে আব্দুল্লাহ গুরুতর আহত হন। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আহত অন্য ৬ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধগুলো স্থানীয় মাতব্বররা টাকার বিনিময়ে সমাধান না করে ঝুলিয়ে রাখতেন। তাদের উসকানি ও স্বার্থান্বেষী ভূমিকার কারণেই পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত প্রাণহানিতে রূপ নিয়েছে।
বাহুবল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে। এলাকায় বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments