৩ নম্বর সতর্ক সংকেত
সন্দ্বীপে ৬ দিন ধরে বন্ধ নৌ চলাচল, চরম দুর্ভোগে হাজারো যাত্রী
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সন্দ্বীপের সঙ্গে সারাদেশের নৌ চলাচল গত ৬ দিন ধরে সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি থাকায় নদী ও সাগর অত্যন্ত উত্তাল রয়েছে। ফলে সন্দ্বীপের সাথে কুমিরা ও বাঁশবাড়িয়া ঘাটের নৌ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় দ্বীপের হাজার হাজার যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন চরম বিপাকে পড়েছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘ ৬ দিন ধরে ফেরি ও সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ঘাট, সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া ও কুমিরা ঘাটে আটকা পড়েছেন কয়েক হাজার যাত্রী। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন প্রবাসী ও সরকারি চাকরিজীবীরা। সপ্তাহের শুরুতে অফিস ও কর্মস্থলে যোগ দিতে না পেরে অনেকেই দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে পণ্যবাহী যানবাহনের ক্ষেত্রে। সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ঘাটে ‘ফেরি কপোতাক্ষ’ সহ শতাধিক গাড়ি আটকে আছে। অন্যদিকে বাঁশবাড়িয়া ঘাটে সন্দ্বীপগামী শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়ে আছে। এসব ট্রাকে থাকা কাঁচামালসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য গত ৪ দিন ধরে পড়ে থাকায় পচে নষ্ট হচ্ছে, যা ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের লোকসানের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এছাড়া গুপ্তছড়া ফেরিঘাটে যাত্রী ও চালকদের জন্য পর্যাপ্ত হোটেল, রেস্তোরাঁ ও ওয়াশরুমের ব্যবস্থা না থাকায় নারী ও শিশুদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
এদিকে ৩ নম্বর সংকেতের প্রভাবে সন্দ্বীপে গত কয়েকদিন ধরে ভারী বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। অতি বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে এবং ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পুকুরের পাড় উপচে পানি প্রবাহিত হওয়ায় মাছ চাষিরা কোটি টাকার লোকসানের আশঙ্কা করছেন।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) জানিয়েছে, সাগরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জানমালের নিরাপত্তায় নৌ চলাচল বন্ধ রাখা হবে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে উপকূলের কাছাকাছি থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments