Image description

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার (নবগঠিত মোকামতলা) চলনাকাঁথী-হরিপুর সড়কের কার্পেটিং কাজ শেষ হওয়ার মাত্র তিন দিনের মাথায় বিভিন্ন স্থানে ধসে পড়েছে। নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার ও দায়সারা কাজের ফলে সড়কটি এখন জনসাধারণের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ মে সড়কটির কার্পেটিং কাজ শেষ হয়। কিন্তু এর মাত্র তিন দিন পরই সড়কের বেশ কিছু অংশে বড় বড় ধস দেখা দেয়। সে সময় এলাকাবাসী যাতায়াত সচল রাখতে নিজ উদ্যোগে মাটি ফেলে ধসে যাওয়া অংশগুলো ভরাট করেন। তবে সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে সেই মাটি সরে গিয়ে ধসের পরিমাণ আরও বেড়েছে। বর্তমানে সড়কের কার্পেটিংয়ের নিচের মাটি সরে গিয়ে ইট ও খোয়া বেরিয়ে এসেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের পাশের সুরক্ষা ব্যবস্থা ও ভিত্তি মজবুত না করায় অল্প বৃষ্টিতেই রাস্তার কার্পেটিং ধসে নিচে নেমে গেছে। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে শত শত শিক্ষার্থী, কৃষক ও বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করলেও ধসে পড়া অংশে কোনো সতর্কতামূলক চিহ্ন দেওয়া হয়নি। ফলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটি নির্মাণে যথাযথ মান বজায় রাখা হয়নি। জনৈক এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "সড়ক নির্মাণের জন্য সরকার কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিলেও ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। যার ফলে তিন দিনও টেকেনি এই কার্পেটিং।"

অনিয়মের বিষয়ে বক্তব্য জানতে গত সোমবার শিবগঞ্জ এলজিইডি কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা প্রকৌশলী সিহাদুল ইসলাম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি তথ্য দিতে অনীহা প্রকাশ করে মঙ্গলবার পুনরায় যোগাযোগের কথা বলেন। তবে মঙ্গলবার তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সেটি রিসিভ করেননি।

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত এই সড়কের ধসে পড়া অংশ সংস্কার করে পুনরায় টেকসইভাবে কাজ সম্পন্ন করতে হবে এবং কাজের অনিয়মের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর