কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একটি মক্তবের ওপর পাহাড় ধসে ৫ শিশু শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে উখিয়ার ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এদিকে জেলাজুড়ে পাহাড় ও দেয়াল ধসের পৃথক ঘটনায় একদিনেই নারী ও শিশুসহ অন্তত ১২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার ডলার ত্রিপুরা ৫ শিশু শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণে পাহাড়ের একটি বিশাল অংশ ধসে ক্যাম্পের ভেতরে থাকা একটি মক্তবের ওপর আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনার সময় মক্তবটিতে ৩০ জনেরও বেশি শিশু পড়াশোনা করছিল। ঘটনার পরপরই এপিবিএন, ফায়ার সার্ভিস, রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবক ও বিভিন্ন এনজিও কর্মীরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে এখন পর্যন্ত ৫টি মরদেহ ও ২০ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, টানা বৃষ্টিতে কক্সবাজার জেলার বন্যা ও পাহাড় ধস পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বাঁকখালী ও মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার ৯টি উপজেলার অন্তত ৩৩টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কয়েক লাখ মানুষ।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উখিয়ার ৫ শিশু ছাড়াও জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ও দেয়াল ধসে আরও ৭ জনসহ মোট ১২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। নতুন করে প্রাণহানি এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকা থেকে সহস্রাধিক মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়েছে জেলা প্রশাসন।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই অতি ভারী বর্ষণ আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে, যা পাহাড় ধসের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments