টোল বাবদ আদায়কৃত হাজার কোটি টাকা বিভিন্ন ইজারাদার কোম্পানিকে চুরি করতে সহযোগিতা করছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কিছু অসাধু কর্মকর্তা। এমন গুরুতর অভিযোগের পর মনিটরিয়েংর দায়িত্বে থাকা সড়কের (এআইএস) শাখার চারজনের দুইজনকে অনত্র্য সংযুক্তি করা হয়েছে। সওজ পিঠ বাচাতে অভিযুক্তদের স্পপদে বহাল রেখে নতুন করে পরামর্শক নিয়োগের নামে সওজের নিজ কর্মকর্তাদের সরিয়ে দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মানবকণ্ঠের ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর ডিজিটাল অডিটের উদ্যেগ নিয়েছে সওজ। কিন্তু যাদের বিরুদ্ধে অভিযগের আঙ্গুল উঠেছে তাদের স্বপদে বহাল রেখে এই অডিটের কার্যক্রম চালু করেছে। কিন্তু সওজ দায় এড়াতে দায়িত্বে থাকা দুই কর্মকর্তা কম্পিউটার সিস্টেম এনালিস্টের দপ্তরে ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সেলের প্রোগ্রামার রীতা ভৌমিককে সড়ক ভবন থেকে সওজ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, মিরপুর ঢাকায় এবং সহকারী প্রোগামার শেখ সুফিয়া মিতুকে, কন্ট্রাক্ট ইভ্যালুয়েশন বিভাগ- তেজগাঁও কার্যালয়ে সংযুক্তি করা হয়েছে।
এদিকে নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে, টোল প্লাজার দায়িত্বে থাকা রেগম্যানকে সরিয়ে দেয়ার চিন্তা করছে সওজ। নতুন পরামর্শক নিয়োগ দেয়া হবে বলে জানা গেছে। তবে কবে নাগাদ নতুন পরামর্শক পাবে সওজ তার সঠিক সময় কেউ বলতে পারেননি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, লোকবল সংকটের কারণে টোল মনিটরিং করা সম্ভব হচ্ছে না সওজের। এই অবস্থায় সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে মনিটরিংয়ের দায়িত্বে থাকা বিভাগ থেকে জনবল সরিয়ে নিচ্ছে। এই শাখার জনবল অনত্র্য সরিয়ে নেওয়ার ফলে টোল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম আরও অরক্ষিত হয়ে পরছে। সাথে এখানে যদি নতুন করে বাইরে থেকে কোন জনবল নিয়োগ করা হয় তাহলে সওজের টোল আদায় কার্যক্রম আরও বেঘাত ঘটবে বলে মনে করছেন তারা।
সওজের সিনিয়র সিস্টেম এনালিস্ট আহসান হাবিব এর আগে বলেছেন, চার জন জনবল নিয়ে এতো বড় কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া কষ্টকর। কিন্ত এরপরও সওজ যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাদেও বহাল তবিয়তে রেখে কাজ কাযক্রম চলমান রেখেছে। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ‘ইউনিফাইড টোলসিস্টেম-ইউটিএস’ সার্ভার লগইন করে, ডাটাবেজে এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য মুছে ফেলার কাজ করছে একটি চক্র। আর এমন অভিযোগের পরে সওজ পিঠ বাচানোর অভিনব কৌশল নিয়েছে।
দেশের ৬৭টি টোল প্লাজার প্রায় ৫৬০টি লেন রয়েছে একটি টোল প্লাজার একটি লেন থেকে মিনিটে ১৯ টাকা করে রাজস্ব ফাকি দিয়ে আসছে একটি অসাধু চক্র। সে হিসাবে দেখা গিয়েছে বছরে প্রায় ৬শত কোটি টাকর টোল এন্ট্রি দিচ্ছে না চক্রটি। তাতে গড়ে দেশের ৬৭টি টোলের প্রায় ৫৬০টি লেন থেকে প্রতিমিনিটে দশহাজার টাকার টোল এন্ট্রি দেওয়া হচ্ছে না। ‘ইউনিফাইড টোল সিস্টেম-ইউটিএস’ সার্ভার নিয়ন্ত্রণের নামে সড়কের টোলের অর্ধেক টাকা যাচ্ছে বিভিন্ন ইজারাদার কোম্পানির পকেটে, জরিত রয়েছে সড়ক বিভাগের একজন সাবেক ও কয়েকজন বর্তমান কর্মকর্তা।
সড়ক বিভাগের কাছে সকল সফ্টওয়ার পরিচালনা করার কথা থাকলেও তার চিত্র ভিন্ন। কোন প্রকার চুক্তি ছাড়া বেসরকারি কোম্পানির মাধ্যমে মূল সফ্টওয়ার গুলোর সার্ভারে লগইন করে টোল আদায়ের স্পর্শকাতর তথ্য মুছে ফেলার কাজ করছে। বেসরকারি কোম্পানি ‘রেগনাম রিসোর্সেস লিমিটেডের’ সহযোগিতায় বছরের পর বছর শত শত কোটি টাকা লোপাট করে আসছে সড়ক ও মহা-সড়ক বিভাগের একটি অসাধু চক্র। রেগনাম রিসোর্সরে সহযোগিতায় সার্ভারের তথ্য ডিলিট ও গাড়ীর টোলের টাকার পরিমান কম এন্ট্রি , গাড়ির স্কেলের পরিমাপের টাকা কম এন্ট্রি দেওয়া হচ্ছে।
সড়ক বিভাগের একটি সূত্র বলছে,রেগমান ছাড়া টোল আদায়ের জন্য আর তিনটি প্রতিষ্ঠান এর সাথে যুক্ত রয়েছে । দেশে এই সিন্ডিকেটের বাহিওে আর কোন কোম্পানির টোল আদায় করতে পারেনা । অন্য যে সকল কোম্পানির নামে টোল আদায় করার সে গুলো কোম্পানি এই চারটি কোম্পানি নিয়ন্ত্রণ করে। দেখা যায় নতুন কম্পানির পরিচালনা পরিশোধের অধীকাংশ লোক এই কোম্পানি গুলোর সাথে যুক্ত থাকে অথবা তাদের মনোনিত লোকদ্বারা এই কোম্পানি গুলো পরিচালনা করা হচ্ছে।
মানবকণ্ঠের অনুসন্ধানে, এর সত্যতা পাওয়া গেছে, একই কোম্পানি আলাদা আলাদা নামে রেজিষ্ট্রশন করে কাজ করছে। সড়ক বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, আমদের লোকবল সংকটের কারণে আমরা জনবল বাহির থেকে হায়ার করি তাতে রেগমানেরও কিছু জনবল রয়েছে। মানবকণ্ঠের মাঠ পর্যায়ে অনুসন্ধানে এর সত্যতা পাওয়া গেছে।
সড়ক ও সেতু বিভাগ সূত্র জানায়, শেখ হাসিনার শাসনামলের দেড় দশক তত্কালীন সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম আর্থিক ও সেবা খাত লুণ্ঠনের একচ্ছত্র সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন। এসবের কয়েকটি হচ্ছে— অ্যাডভোকেট আনিসুল হকের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ‘কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেম (সিএনএস), ওবায়দুল কাদেরের ‘ঘনিষ্ঠজন’ হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ হোসাইন জনির ‘রেগনাম রিসোর্সেস লিমিডেট’, আমিনুল হক শামীমের ‘শামীম এন্টারপ্রাইজ, মোহাম্মদ কালাম হোসেন মালিকানাধীন ‘ইউডিসি কোম্পানি লি:’, আওয়ামী শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক এবং প্রকৌশলী মেহবুব কবির মালিকানাধীন ‘এশিয়ান ট্রাফিক টেকনোলজি লিমিটেড (এটিটি)’ এবং হাসিনার পালিত কসাইখ্যাত (বর্তমানে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় বিচারের মুখোমুখি) জিয়াউল আহসানের ‘পেন্টা গ্লোবাল’।
এ প্রতিষ্ঠানগুলোই ঘুরেফিরে দেশের ৬৭টি টোলপ্লাজা এবং সড়ক থেকে টোল কালেকশন কব্জায় রেখেছে। আনিসুল হক এবং জিয়াউল আহসান মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান দুটির বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। এছাড়া প্রায় প্রতিটি কোম্পানির নামে দুদকে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে কম্পিউটার সিস্টেম এনালিস্ট আল-আমিন বলেন, আমরা রেগমানের সাথে কোন কাজ করছিনা। এটা সংশ্লষ্ট সড়ক বিভাগের দায়িত্ব তারা সেটা জানে। আমরা এখান থেকে শুধু মনিটরের দায়িত্ব পালন করে থাকি।




Comments