Image description

২০২১ সালের বহুল আলোচিত সেই গ্রেপ্তারের ঘটনাকে ‘সাজানো নাটক’ ও ‘সম্পূর্ণ বেআইনি’ বলে দাবি করেছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। সম্প্রতি নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন র‍্যাব মহাপরিচালক ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের সরাসরি নির্দেশেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

পরীমনি তার স্ট্যাটাসে র‍্যাবের সাবেক গোয়েন্দা প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল খাইরুল ইসলামকে ধন্যবাদ জানিয়ে লেখেন, “সম্প্রতি একটি অনলাইন টকশোতে আপনি সত্য স্বীকার করেছেন। এর মাধ্যমে দেশবাসী জানতে পারলো যে, ২০২১ সালের ৪ আগস্ট আমার বাসায় অভিযানের নামে নাটকীয়তার পর সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের নির্দেশে আমাকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।”

গ্রেপ্তার পরবর্তী অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে এই অভিনেত্রী লেখেন, “মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় আমাকে ৭ দিনের রিমান্ড এবং টানা ২০ দিন কারাগারে রাখা হয়েছিল। সেই সময় আমার জীবনকে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত ও বিপর্যস্ত করেছে, তা আল্লাহ আর আমি ছাড়া কেউ বুঝবে না। রাষ্ট্র আমাকে অপদস্থ করেছে, আমার চরিত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে।”

রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে পরীমনি বলেন, “মাননীয় আদালত হয়তো আমাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেবেন, কিন্তু আমার হারিয়ে যাওয়া দিনগুলো কি ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব? যে সম্মান ও মানসিক শান্তি আমি হারিয়েছি, তা কি আর কখনো ফিরে পাব? রাষ্ট্র কি এর দায় নেবে?”

তবে কোনো ক্ষোভ বা প্রতিশোধ নয়, বরং ভবিষ্যতে আর কোনো নির্দোষ মানুষ যেন এমন পরিস্থিতির শিকার না হন, সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি। পরীমনি আরও বলেন, “আমি অতীতের ক্ষত বয়ে বেড়াতে চাই না। আমি মুক্ত আকাশে পরীর মতো উড়তে চাই। আমার কাজ, সন্তান এবং দর্শকদের ভালোবাসা নিয়েই বাকি জীবন বাঁচতে চাই।”

২০২১ সালের ৪ আগস্ট বনানীর বাসা থেকে পরীমনিকে গ্রেপ্তার করেছিল র‍্যাব। এরপর তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর