গাইবান্ধায় নদী ভাঙনরোধ কাজে অনিয়মের অভিযোগ, বিএনপি-জামায়াত উত্তেজনা
গাইবান্ধার ফুলছড়িতে প্রায় ২৯ লাখ টাকার নদীভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। জিও ব্যাগের মান ও বালুর পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন তোলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ তদন্তে ইতিমধ্যে মাঠে নেমেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত তিন সপ্তাহে ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ রসুলপুর এলাকায় ভিটেমাটিসহ অন্তত ৫০ বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন ঠেকাতে গত ৭ জুলাই থেকে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করে পাউবো। তবে কাজ শুরুর পর থেকেই নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।
রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি-সাঘাটা) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়ারেস এবং জামায়াতের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনকালে জিও ব্যাগের মান ও ওজনে অসঙ্গতি দেখতে পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। এ সময় কঞ্চিপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মিলন ও তার সমর্থকদের সঙ্গে জামায়াত নেতাকর্মীদের বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি কিছু সময়ের জন্য থমথমে হয়ে ওঠে।
অভিযোগ উঠেছে, ব্যবহৃত জিও ব্যাগ অত্যন্ত নিম্নমানের এবং বালুর সঙ্গে মাটি মিশ্রণ করা হচ্ছে। এছাড়া প্রতিটি বস্তায় নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম বালু দেওয়া হচ্ছে। ঘটনার পর উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পাল্টাপাল্টি পোস্ট দিয়েছেন। জামায়াত নেতাকর্মীদের দাবি, বালাসী এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকেই ভাঙনরোধের কাজ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বিএনপির দাবি, জামায়াত নেতারা কাজে বাধা দিচ্ছেন এবং শ্রমিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছেন।
ফুলছড়ি ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি নূর আলম বলেন, "স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা এবং এমপি মহোদয় কাজ দেখতে যাই। সেখানে নিম্নমানের ব্যাগ ও মাটি মিশ্রিত বালু পাওয়া যায়। অনিয়মের প্রতিবাদ করায় বিএনপির লোকজন আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়।"
অন্যদিকে কঞ্চিপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মিলন বলেন, "আমি কোনো ঠিকাদার নই। প্রশাসন ও পাউবোর অনুরোধে মানবিক কারণে কাজে সহযোগিতা করছি। জামায়াত নেতারা কাজের ভাগ পেতে শ্রমিকদের সঙ্গে অসদাচরণ করেছেন।"
গাইবান্ধা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, "কাজের মান নিয়ে ওঠা অভিযোগ তদন্তে ইতিমধ্যে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীকে পাঠানো হয়েছে। সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা কোনো ব্যক্তিকে কাজ দেইনি, কাজটি একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান (সোবহান এন্টারপ্রাইজ) বাস্তবায়ন করছে।"
ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, অনিয়মের অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments