বেলাবতে টানা বৃষ্টিতে মাটির ঘর ধসে বৃদ্ধার মৃত্যু, আতঙ্কে কয়েকশ পরিবার
নরসিংদীর বেলাবতে টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে মাটির ঘর ধসে পড়ার ঘটনা আশঙ্কাজনকহারে বেড়েছে। রোববার (১২ জুলাই) পৃথক দুটি ঘটনায় মাটির ঘরের দেয়ালচাপায় এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে এবং অন্য একটি পরিবারের প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব ঘটনায় উপজেলার লাল মাটি অঞ্চলের মাটির ঘরে বসবাসকারী পরিবারগুলোর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আমলাবো ইউনিয়নের পাহাড় উজিলাবো গ্রামের হারুন মিয়ার মাটির ঘরটি টানা বৃষ্টিতে হঠাৎ ধসে পড়ে। এতে ঘরের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র, কাপড়চোপড় ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ গৃহস্থালির যাবতীয় মালামাল মাটির নিচে চাপা পড়ে নষ্ট হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দাবি, এতে তাদের প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে পরিবারটি খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
অন্যদিকে, একই ইউনিয়নের ধুকুন্দি কালিয়াপাড়া গ্রামের রওশনা বেগম (৭০) নিজ ঘরে থাকা অবস্থায় মাটির দেয়াল ধসে চাপা পড়েন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করার আগেই ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। শুধু আমলাবো ইউনিয়নই নয়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে মাটির ঘর আংশিক বা সম্পূর্ণ ধসে পড়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
আমলাবো গ্রামের বাসিন্দা মো. জলিল মিয়া বলেন, “আমাদের এলাকার বেশিরভাগ ঘরই মাটির। টানা বৃষ্টির কারণে দেয়ালগুলো নরম হয়ে গেছে। যেকোনো সময় ধসে পড়ার ভয়ে আমরা রাতে ঘুমাতে পারছি না।” ধুকুন্দি গ্রামের সুমন রাজ বলেন, “এসব মাটির ঘর আমাদের ঐতিহ্যের অংশ হলেও অতিবৃষ্টিতে এগুলো এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সরকারি সহায়তায় এগুলো সংস্কার বা নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করা জরুরি।”
আমলাবো ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নুরুল হাসান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত দুটি পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। দ্রুত সরকারি সহায়তা পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লায়লাতুল হোসেন বলেন, “যাদের ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমি নিজে এলাকাগুলো পরিদর্শনে যাব এবং সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।”
নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া জানান, ঝুঁকিপূর্ণ মাটির ঘরে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল নিহত বৃদ্ধার পরিবারের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা মানুষদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, বেলাব উপজেলার লাল মাটি অঞ্চলে এখনও শত শত পরিবার মাটির ঘরে বসবাস করে। স্থানীয়দের দাবি, আরও প্রাণহানি এড়াতে দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ ঘরগুলো চিহ্নিত করে স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments