Image description

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় স্কুল ফিডিং প্রোগ্রামের আওতায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে পচা, নষ্ট ও পুরোনো ডিম সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি উপজেলার ব্যাংকান্দা প্রধান বাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থী ডিম খেতে গিয়ে তিক্ত স্বাদ অনুভব করার পর বিষয়টি সামনে আসে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

সরেজমিনে তথ্য নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায়ই পুরোনো ও নষ্ট ডিম সরবরাহ করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ডিমের ভেতর থেকে দুর্গন্ধযুক্ত পানি বের হয় এবং ডিমের আকার আগের তুলনায় অনেক ছোট হয়ে গেছে। কোমলমতি শিশুরা না বুঝে এসব খাবার খেয়ে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষকরা।

বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা জানায়, মাঝে মাঝে ডিম তিতা লাগে। এছাড়া পাউরুটির আকার ছোট হয়ে গেছে এবং প্যাকেটের ভেতরে শুধু বাতাস থাকে। কয়েকদিন ধরে বিস্কুটও দেওয়া হচ্ছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক বলেন, "শুরুর দিকে খাবারের মান ভালো থাকলেও ইদানীং পচা ডিম ও মানহীন খাবার দেওয়া হচ্ছে। এভাবে চললে শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়বে। আমরা চাই সরকার এই খাদ্য সরবরাহ প্রক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করুক।"

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আরও অভিযোগ, আগে দুধ বেশ ঘন ও সুস্বাদু হলেও বর্তমানে তা অনেক পাতলা। পুষ্টিযুক্ত বিস্কুট কয়েকদিন সরবরাহ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল। তাদের প্রশ্ন, শিশুদের খাবারের মান কমিয়ে কোনো সিন্ডিকেট বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে কি না।

এ বিষয়ে ডিম সরবরাহকারী আব্দুল আলিম বলেন, "ডিম খারাপ পাওয়া গেলে তা পরিবর্তন করে দেওয়া হবে। এছাড়া খারাপ ডিম প্রধান শিক্ষকের গ্রহণ করার কথা নয়।"

পাটগ্রাম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল হামিদ সরকার বলেন, "শিশুদের খাদ্যের মান নিয়ে কোনো আপস করা হবে না। পচা ডিম বা নিম্নমানের খাবারের বিষয়ে আমরা কড়া নির্দেশনা দিয়েছি। বিস্কুট সরবরাহ না করা এবং অন্যান্য অনিয়মের তথ্যগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যেসব দিন বিস্কুট দেওয়া হয়নি, তার বিল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান পাবে না এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

মানবকণ্ঠ/ডিআর