Image description

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার মুরিয়াউক ইউনিয়নের কাশিমপুর গ্রামে প্রবাসী স্বামীর অনুপস্থিতিতে এক গৃহবধূর সন্তান প্রসবের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। গত ৯ জুলাই বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে এই ঘটনা ঘটে। সন্তান প্রসবের পর নবজাতককে নিয়ে ওই গৃহবধূ বাবার বাড়িতে চলে গেলেও বর্তমানে শিশুটির কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কাশিমপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রশিদ মিয়ার ছেলে জাকির হোসেন দীর্ঘ তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রবাসে অবস্থান করছেন। বাড়িতে তার দুই সন্তান ও শ্বশুরসহ বসবাস করতেন স্ত্রী খাদিজা (৩০)। স্বামীর অনুপস্থিতিতে সন্তান প্রসবের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় পরকীয়া ও নবজাতকের পিতৃপরিচয় নিয়ে নানা গুঞ্জন শুরু হয়।

ঘটনার রাতে খাদিজার প্রসব বেদনা উঠলে তার জা আক্তার বানু এবং প্রতিবেশী রুজি আক্তার ও ফাইজুন্নাহারকে ডেকে আনা হয়। আক্তার বানু জানান, "খবর পেয়ে ঘরে ঢুকে বাচ্চার কান্নার শব্দ শুনতে পাই এবং দেখি একটি ছেলে সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়েছে। স্বামী প্রবাসে থাকায় এমন দৃশ্য দেখে আমি হতভম্ব হয়ে পড়ি। রাতেই খাদিজা নবজাতককে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে যায়।" প্রতিবেশী রুজি আক্তার ও ফাইজুন্নাহারও একটি ফুটফুটে ছেলে সন্তান প্রসবের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ফাইজুন্নাহার জানান, তিনি নিজেই নবজাতককে কোলে নিয়েছিলেন।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর গ্রামের মুরুব্বি মোহাম্মদ কাজল মিয়াসহ স্থানীয়রা ওই গৃহবধূর বাবার বাড়ি নকলাউক গ্রামে গেলে তারা অসদাচরণ করেন। পরে খাদিজা দাবি করেন, কোনো সন্তান হয়নি বরং ৫-৬ মাস ধরে পিরিয়ডের সমস্যার কারণে একটি রক্তের পিন্ড বের হয়েছে। খাদিজার বাবা ফজলুর রহমানও সন্তান প্রসবের বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।

এ বিষয়ে গৃহবধূর শ্বশুর আব্দুর রশিদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলেও পারিবারিক সম্মানের দোহাই দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার অনুরোধ জানান। স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল আমিন জানান, তিনি ঘটনাটি শুনলেও বিস্তারিত এখনো জানতে পারেননি।

লাখাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরীফ আহমেদ বলেন, "বিষয়টি সম্পর্কে আমরা এখনো অবগত নই এবং কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

প্রবাসী স্বামীর দীর্ঘ অনুপস্থিতিতে এমন রহস্যজনক সন্তান প্রসব এবং পরবর্তীতে নবজাতকসহ মায়ের আত্মগোপন ও শিশুর সন্ধান না পাওয়ায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল নবজাতকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এই রহস্য উদঘাটনে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর