Image description

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট উচ্চতার 'রামমূর্তি' নির্মাণ করতে চেয়ে দেশজুড়ে আলোচনায় আসা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে চার দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে গাইবান্ধার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন জানালে বিজ্ঞ বিচারক চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে গত ১২ জুলাই (রোববার) দিবাগত রাতে পলাশবাড়ী উপজেলার মধ্যরামচন্দ্রপুর শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ কালী মন্দির এলাকা থেকে সিআইডির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট তাকে হেফাজতে নেয়। সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা একটি মানি লন্ডারিং মামলার এজাহারনামীয় আসামি তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার রাতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে কয়েকজন ব্যক্তি মন্দির প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে হরিদাস চন্দ্রকে বাইরে ডেকে আনেন। পরে তাকে হাতকড়া পরিয়ে একটি গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয়।

পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম খান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "মানি লন্ডারিং মামলায় সিআইডি তাকে গ্রেপ্তার করেছে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং মন্দির এলাকায় সতর্কতামূলক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।"

চলতি বছরের জুন মাসে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে দেশের বৃহত্তম ‘রামমূর্তি’ স্থাপনের ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় আসেন হরিদাস। তবে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিতর্ক ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হলে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে জুনের শেষভাগে মূর্তির নির্মাণকাজ স্থগিত ঘোষণা করে মন্দির কমিটি। সে সময় কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখতে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, হরিদাসের বিরুদ্ধে কেবল মানি লন্ডারিং নয়, অর্থ আত্মসাৎ, সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা, ধর্মীয় উসকানি, মন্দির ও শ্মশানের জমি দখল এবং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রসহ অসংখ্য গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এর আগে ২০১৮ সালেও একটি বড় ধরনের প্রতারণা মামলায় র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি।

মানবকণ্ঠ/ডিআর