দূষণে জৌলুস হারাচ্ছে পূবাইলের বেলাই বিল, দিশেহারা ব্যবসায়ীরা
একসময় বর্ষা এলেই পর্যটকদের পদচারণায় মুখর থাকত গাজীপুর মহানগরের পূবাইলের প্রাকৃতিক জলাভূমি বেলাই বিল। নয়নাভিরাম প্রকৃতি, নৌভ্রমণ আর নির্মল বাতাসের টানে প্রতিদিন এখানে শত শত দর্শনার্থীর সমাগম ঘটত। তবে চলতি মৌসুমে সেই চিরচেনা চিত্র পাল্টে গেছে। বিলের পানি দূষণ, কচুরিপানা আর দুর্গন্ধের কারণে পর্যটকের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে, যার ফলে চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
সম্প্রতি সরেজমিনে বেলাই বিল এলাকা ঘুরে দেখা যায়, আগের মতো পর্যটকদের ভিড় নেই। হাতেগোনা কিছু দর্শনার্থী রঙিন ছাউনি ও আলোকসজ্জায় সজ্জিত নৌকায় বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করার চেষ্টা করছেন। পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে নৌকাগুলোতে বসার আরামদায়ক ব্যবস্থা, হালকা খাবার ও সংগীতের ব্যবস্থা থাকলেও পরিবেশগত সমস্যার কারণে দর্শনার্থীদের মাঝে সেই আগের উচ্ছ্বাস নেই।
নৌকা পরিচালনায় নিয়োজিত স্থানীয় উদ্যোক্তারা জানান, তারা পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অস্থায়ী ঘাট, লাইফ জ্যাকেট এবং পরিচ্ছন্নতার সর্বোচ্চ চেষ্টা রেখেছেন। তবুও পানির দুর্গন্ধে মানুষ বিমুখ হচ্ছে। ঢাকা থেকে আসা পর্যটকরা জানান, আগে বেলাই বিলের পরিবেশ অনেক পরিচ্ছন্ন ছিল। কিন্তু এখন পানির রং পরিবর্তন হয়ে গেছে এবং উৎকট গন্ধ ছড়াচ্ছে। ফলে নৌকায় বসে থাকা দুষ্কর হয়ে পড়েছে।
বিলের নৌভ্রমণে আসা পর্যটকদের অন্যতম বিশ্রামের জায়গা পূবাইল বাজার। সেখানকার ব্যবসায়ীরা জানান, দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি এবং বিলের অভ্যন্তরীণ দূষণের কারণে এবার ব্যবসা তলানিতে ঠেকেছে। তারা বলেন, “গত বছরগুলোতে যে পরিমাণ বেচাকেনা হয়েছে, এবার তার এক-চতুর্থাংশও হচ্ছে না। নোংরা পানির কারণে অনেক পর্যটক নৌকা থেকে নামতেই চান না।”
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, বেলাই বিলকে পরিকল্পিতভাবে সংরক্ষণ করা এখন সময়ের দাবি। বিলের পানি দূষণ রোধ, নিয়মিত কচুরিপানা পরিষ্কার এবং পর্যটনবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তুলতে সরকারের কার্যকর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
এলাকাবাসীর মতে, বেলাই বিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষা করে পরিকল্পিত পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা গেলে এটি গাজীপুরের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখবে এবং সৃষ্টি হবে নতুন কর্মসংস্থান।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments