Image description

উন্নয়নের নামে যেন এক নির্মম প্রহসন। সরকারি অর্থে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে নগরপাড়া বাজার থেকে খালের সেতু পর্যন্ত ঢালাই সড়কটি উদ্বোধনের মাত্র এক মাসের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে ধসে পড়েছে। একই সঙ্গে সড়কের বাজার অংশে পানি নিষ্কাশনের কোনো ড্রেনেজ বা পাইপলাইন না থাকায় পুরো এলাকা স্থায়ী জলাবদ্ধতায় পরিণত হয়েছে। ফলে নগরপাড়া, কাজীবাড়ি, পূর্বপাড়া, পশ্চিমপাড়া ও আশপাশের আরও কয়েকটি গ্রামের প্রায় ৭ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার এবং পরিকল্পনার অভাবের কারণে এত অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির পানি ও বাজারের ময়লা-আবর্জনা জমে সড়কটি এখন দুর্গন্ধযুক্ত জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়, যার কারণে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, দিনমজুর ও সাধারণ মানুষের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

দুর্নীতির খেসারত দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ : এলাকাবাসীর দাবি, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের উদ্দেশ্যে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হলেও বাস্তবে কাজ হয়েছে অত্যন্ত নিম্নমানের। অভিযোগ রয়েছে, যথাযথ মান বজায় না রেখে নামমাত্র ইটের খোয়া ও ঢালাইয়ের কাজ করে প্রকল্পের বড় একটি অংশের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। সড়কের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে এবং পচা পানিতে চলাচল করতে গিয়ে শিশু-বৃদ্ধসহ অনেকেই চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

জরুরি প্রয়োজনে কোনো রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স বা অন্যান্য যানবাহন গ্রামে প্রবেশ করতে পারে না। অনেক সময় মুমূর্ষু রোগীদের খাটিয়া বা কাঁধে করে মূল সড়কে এনে হাসপাতালে নিতে হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন বলেন, “রাস্তার নিচে পানি যাওয়ার জন্য কোনো পাইপ দেওয়া হয়নি। ফলে ভেতরের পুরো রাস্তা পানিতে ডুবে থাকে। এতে মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।”
 
ব্রাইট শিশু কানন হাই স্কুলের শিক্ষার্থী রাহিদ ও রাশিদ জানায়, “প্রতিদিন এই নোংরা পানি মাড়িয়ে স্কুলে যেতে হয়। আমাদের পায়ে চুলকানি ও বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগ দেখা দিয়েছে।” ব্যবসায়ী আবুল হাশেম বলেন, “দোকানের ভেতরে পানি ঢুকে ব্যবসার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এভাবে চললে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।”

ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী: স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ জানিয়েও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তারা অবিলম্বে নিম্নমানের নির্মাণকাজের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুনর্নির্মাণ এবং স্থায়ী ড্রেনেজ ও পাইপলাইন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী আক্তার হোসেন বলেন, “বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম জয় বলেন, “আমি বিষয়টি জেনেছি। দ্রুত সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”