রায়গঞ্জে ধর্ষণচেষ্টার মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারের পর ভুক্তভোগীর বাবার ওপর হামলা
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা মামলার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে গ্রেপ্তারের পরপরই ভুক্তভোগী শিশুর বাবার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত স্বপন সরকার বর্তমানে রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রায়গঞ্জ পৌরসভার পূর্ব লক্ষ্মীখোলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধর্ষণচেষ্টার মামলাটি নিয়ে পূর্ব লক্ষ্মীখোলা গ্রামের একটি মাদ্রাসার কক্ষে গ্রাম্য সালিশ চলছিল। স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি এতে বিচারকের ভূমিকায় ছিলেন। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সেখানে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হয়।
ভুক্তভোগী শিশুর দাদি সালেকা বেগম ও নানি কবরী বেগম বলেন, "জোর করে বিচার বসানো হয়েছিল। আমরা বিচার চাই না, আসামির শাস্তি চাই।"
মামলার বাদী ও শিশুটির মা আলপনা বেগম বলেন, "আমাদের জোর করে সেখানে বসানো হয়েছিল। আমরা গোপনে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে আসামিকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা আমাদের ওপর হামলা চালায়। এমনকি স্ট্যাম্প এনে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়ারও চেষ্টা করা হয়েছিল।"
স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক ফয়সাল বিশ্বাস জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের কাছ থেকে খবর পেয়ে তিনি বিষয়টি রায়গঞ্জ থানাকে জানান। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধর্ষণচেষ্টা মামলার অভিযুক্ত হযরত আলীকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ আসার খবর পেয়ে সালিশে উপস্থিত প্রভাবশালীরা সটকে পড়েন। এরপরই ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলায় শিশুটির বাবা স্বপন সরকার গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এর আগে শিশুটিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে তাঁর মা আলপনা বেগম বাদী হয়ে রায়গঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। ওই মামলায় পূর্ব লক্ষ্মীখোলা গ্রামের হযরত আলীকে অভিযুক্ত করা হয়।
হামলার বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষ বা সালিশকারীদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কাউকে পাওয়া যায়নি।
রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসানউজ্জামান বলেন, "শিশু ধর্ষণচেষ্টা মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর হামলার যে অভিযোগ উঠেছে, সেটিও তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments