Image description

অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার পথে মানবপাচারকারী চক্রকে ৬০ লাখ টাকা দেওয়ার পরও প্রাণ বাঁচেনি মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার সোহাগ মুন্সির। পরিবারের অভিযোগ, আরও ২৭ লাখ টাকা দিতে না পারায় লিবিয়ায় তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। পরে মরদেহ গুম করে ফেলা হয়। এ ঘটনায় পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহত সোহাগ মুন্সি রাজৈর উপজেলার মজুমদারকান্দি গ্রামের আশরাফ আলী মুন্সির ছেলে। দেশে তিনি রংমিস্ত্রির কাজ করতেন।

পরিবার জানায়, সংসারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির আশায় ইতালি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন সোহাগ। এ সময় স্থানীয় মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য ময়না আক্তার ও জুলহাস সরদারের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়। চুক্তি অনুযায়ী প্রথমে তাদের ২২ লাখ টাকা দেওয়া হয়।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সোহাগ দেশ ছাড়েন। প্রথমে তাকে সৌদি আরব এবং পরে লিবিয়ার ত্রিপলিতে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনের ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠিয়ে কয়েক দফায় আরও ৩৮ লাখ টাকা আদায় করে দালাল চক্র। পরে দেশে ফেরত পাঠানোর কথা বলে আরও দুই লাখ টাকা দাবি করা হয়।

কিন্তু দেশে ফেরানোর বদলে গত ২৩ জুলাই দালাল চক্র আরও ২৭ লাখ টাকা দাবি করে। ২৪ জুলাই সকাল ৮টার মধ্যে টাকা দিতে বলা হলেও পরিবার তা জোগাড় করতে পারেনি। পরিবারের অভিযোগ, এরপরই সোহাগকে গুলি করে হত্যা করা হয়। বুধবার (২৯ জুলাই) দালালদের মাধ্যমেই তার মৃত্যুর খবর জানতে পারে পরিবার।

সোহাগের মা শাহিনুর বেগম বলেন, ‘জমি বিক্রি করেছি, ঋণ নিয়েছি, মানুষের কাছ থেকে ধার করেছি। ৬০ লাখ টাকা দিয়েও আমার ছেলেকে বাঁচাতে পারলাম না। আমি আমার ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানাই। একই সঙ্গে দালালদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।’

মাদারীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার বিমল চন্দ্র বর্মন জানান, এ ঘটনায় নিহতের মা শাহিনুর বেগম রাজৈর থানায় মামলা করেছেন। মামলার প্রধান আসামি জুলহাস সরদারকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তবে মানবপাচারকারী চক্রের মূল হোতাদের বেশিরভাগই দেশের বাইরে অবস্থান করায় তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হচ্ছে না।