Image description

বর্তমানে দেশে দুর্নীতি বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি সরকার নিজেই স্বীকার করছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। 

শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ত্রি-বার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

পরিবহন শ্রমিকদের ত্যাগের কথা স্মরণ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘২৪-এর জুলাই আন্দোলনে শ্রমিক সমাজ সবচেয়ে বেশি আত্মত্যাগ করেছে। এই আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি প্রাণ হারিয়েছে শ্রমজীবী মানুষ। তারা কেবল কোটার বিরুদ্ধে নয়, বরং একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে রাজপথে নেমেছিল।’

বিগত আওয়ামী সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকার জামায়াতকে নিষিদ্ধ করেছিল ১ আগস্ট। আর তাদের দেশ ছাড়তে হয়েছে ৫ আগস্ট। ন্যায়ের পথ রুদ্ধ করলে পরিণাম এমনই হয়।’

বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, ‘সরকার দাবি করছে দুর্নীতি বেড়েছে। আমরা দেখি সব কিছু তারেক রহমানের ইশারায় চলে, তাহলে তার ইশারায় দুর্নীতি বন্ধ হচ্ছে না কেন? নৈতিক দিক থেকে সরকার দেশ চালাতে ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন টেম্পু স্ট্যান্ড ও পরিবহন খাতে সরকারি দলের পরিচয়ে চাঁদাবাজি ও শ্রমিক হয়রানি চলছে। এই জুলুম দেশের মানুষ মেনে নেবে না।’

কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার সবাইকে চাকরি দেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু তারা চাকরি দিচ্ছে টেম্পু স্টেশনে। বাংলাদেশের মানুষ এমন নিম্নমানের কর্মসংস্থান প্রত্যাখ্যান করে। যুবসমাজ সম্মানজনক কর্মসংস্থান চায়।’

জুলাই বিপ্লবের যোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়ার দাবি জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটের পক্ষে রায় দিয়েছে। সরকার যদি গণতান্ত্রিক হয়, তবে তাদের জনগণের এই রায় ও আকাঙ্ক্ষা মানতে হবে।’

বক্তব্যের শেষে তিনি জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহত শ্রমিকদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

মানবকণ্ঠ/ডিআর