Image description

মাদারীপুর পৌর শহরের অধিকাংশ সড়কের অবস্থা এখন অত্যন্ত করুণ। একটু বৃষ্টি হলেই সড়কে জমে যাচ্ছে হাঁটুসমান পানি। আর সেই পানি নেমে গেলে দৃশ্যমান হচ্ছে বড় বড় খানাখন্দ। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাব, পানি নিষ্কাশনের দুর্বল ব্যবস্থা এবং ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে প্রতিদিন অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ পথচারী, ব্যবসায়ী ও যানবাহন চালকদের।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পৌর শহরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শহীদ বাচ্চু সড়কের প্রায় এক কিলোমিটার অংশজুড়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক জায়গায় পিচ উঠে গিয়ে সড়কটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে থাকে, যা যান চলাচলের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। শুধু শহীদ বাচ্চু সড়ক নয়, মন্টু ভূঁইয়া সড়ক, হামিদ আকন্দ সড়ক, ডাক্তার তোতা সড়ক, শহীদ হারুন সড়ক ও অখিল বন্ধু সড়কসহ শহরের বেশিরভাগ সড়কেরই একই বেহাল দশা।

এছাড়া ভুঁইয়া কমিউনিটি সেন্টার এলাকা, জেলা পরিষদ ভবনের সামনে, ১ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির এলাকা, লঞ্চঘাট এবং মিলন সিনেমা হলের সামনের সড়কেও সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে স্কুল-কলেজমুখী শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

আমিনুল নামের এক অটোরিকশাচালক আক্ষেপ করে বলেন, “পৌরসভার রাস্তাগুলোর যে অবস্থা, তাতে গাড়ি চালালে দুই-একদিন পরপরই গ্যারেজে নিতে হয়। ভাঙা রাস্তায় ঝাঁকুনির কারণে যাত্রীরাও বিরক্ত হন, আবার আমাদের আয়ও কমে গেছে।” শহীদ বাচ্চু সড়ক এলাকার ব্যবসায়ী আলমগীর মাতব্বর জানান, প্রায় দুই বছর ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি খানাখন্দে ভরা। অথচ এটি পুরান বাজারে যাওয়ার অন্যতম প্রধান পথ।

এ বিষয়ে মাদারীপুর পৌর প্রশাসক জেসমিন আক্তার বানু বলেন, “পৌরসভার জলাবদ্ধতা নিরসনে মাননীয় সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়ার সহযোগিতায় একটি খাল খননের কাজ শুরু হয়েছে। তবে যত্রতত্র খাল ও পুকুর ভরাট করার কারণে সমস্যাটি প্রকট হচ্ছে। অনেকে ড্রেনে ময়লা ও প্লাস্টিকের বোতল ফেলেন, যা পানি চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। এ বিষয়ে নাগরিকদেরও সচেতন হওয়া জরুরি।”

সড়ক সংস্কারের বিষয়ে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, “শহীদ বাচ্চু সড়কসহ আরও দুটি সড়কের উন্নয়নকাজের টেন্ডার খুব শিগগিরই আহ্বান করা হবে। আশা করছি দ্রুতই সংস্কার কাজ শুরু হবে।”

মানবকণ্ঠ/ডিআর