জাপানি মুদ্রা ইয়েনের মান গত ৪০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছানোর পর এর দরপতন ঠেকাতে এক বিরল যৌথ পদক্ষেপে অংশ নিয়েছে জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি হস্তক্ষেপে ও দুই দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তৎপরতায় ইয়েনের মান দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক বিশেষ বিবৃতির পর জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয় এই যৌথ হস্তক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করে। ট্রাম্প তার বিবৃতিতে বলেন, ‘বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিকে সমর্থন জোগাতে ওয়াশিংটন ইয়েনের মূল্যবৃদ্ধিতে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করছে।’ যুক্তরাষ্ট্র কেন জাপানি মুদ্রাকে সমর্থন করছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, ‘তাদের ইয়েন দুর্বল হয়ে পড়ছিল এবং তারা কিছুটা সাহায্য চেয়েছিল। আর বন্ধু দেশ হিসেবে আমরা জাপানের পাশে সবসময় আছি।’
ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে ইয়েনের দর এক লাফে ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি মার্কিন ডলারে ১৫৫ দশমিক ২০ ইয়েনে পৌঁছেছে, যা গত তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে টানা দুই সেশনে ইয়েনের দর ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। শুধু ডলারই নয়, ইউরো ও স্টার্লিংয়ের মতো অন্যান্য প্রধান মুদ্রার বিপরীতেও ইয়েন উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে।
জাপানি মুদ্রার এই লাগাতার দরপতনে দেশটিতে আমদানি ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গিয়েছিল, যা সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিতে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় জাপানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির জনপ্রিয়তাতেও বড় ধস নামে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জাপান সরকার দীর্ঘদিন ধরে হিমশিম খাচ্ছিল।
জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে গত শুক্রবারের ইয়েন-ক্রয় সংক্রান্ত এই যৌথ হস্তক্ষেপ সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বাজারে বিরাজমান অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খল গতিবিধি মোকাবিলায় বড় ভূমিকা রেখেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘আমরা মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখছি এবং প্রয়োজন হলে আরও যৌথ হস্তক্ষেপ করতে দ্বিধা করব না।’
এদিকে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও এই যৌথ প্রচেষ্টার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, বাজারের স্থিতিশীলতা ফেরাতে ওয়াশিংটন প্রয়োজনে আবারও জাপানের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments